
ভারতে মধ্য প্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক শাহী মসজিদে বুলডোজার অভিযান ঠেকাতে শত শত মুসলিম মসজিদের ভেতরে অবস্থান নিয়েছেন। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের মধ্যেও স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধ্বংস অভিযান রুখে দিয়েছেন।
২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য হিন্দুদের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার অজুহাতে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মসজিদটির একাংশ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুসলিমবিদ্বেষি প্রশাসন।
তৌকির খান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা এভাবে মসজিদে অবস্থান করছেন। বিপুলসংখ্যক মুসলমান পালা করে মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছেন যেন প্রশাসন মসজিদটি ভাঙতে না পারে। প্রতিদিন এখানে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রবিবার মধ্যরাতের অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন, “গত রাতে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল। মসজিদটি ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে তারা বুলডোজার এনেছিল। কিন্তু মসজিদের ভেতরে ও বাইরে শত শত মুসলমান একত্রিত হয়েছিলেন, ফলে অভিযানটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।”
বিশিষ্ট আলেম ও ধর্মীয় নেতা মুফতি জুনায়েদ বলেন, “মসজিদটি ভেঙে ফেলা হলে আরও ২৮টি মসজিদ একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। এটি প্রশাসনের সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী আচরণ। একটি ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে তারা অন্য ধর্মের অস্তিত্ব পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে চায়, এর কোনও অর্থ হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, উজ্জয়িনী শহরে অসংখ্য মুসলিম বসবাস করেন, এখানে অনেক পুরোনো মসজিদ রয়েছে। কীভাবে আমরা এসব মসজিদ ভেঙে ফেলতে দিতে পারি?”
উজ্জয়িনী শহরের তাকিয়া মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসন মুসলিমদের বারবার আশ্বস্ত করেছিল যে মসজিদটি ভাঙা হবে না। কিন্তু পরে হঠাৎ করেই সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।
তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “তাকিয়া মসজিদ ভেঙে সরকার আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাই শাহী মসজিদের বিষয়টি সামনে এলে মুসলিমরা সরকারের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ওপর আর আস্থা রাখছেন না। এখন আমরা নিজেরাই সংগঠিত হয়েছি এবং মসজিদ রক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছি”।
তিনি আরও যোগ করেন, সরকারের সাথে লড়াই করার সামর্থ্য আমাদের নেই। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রশাসন যদি বুলডোজার চালাতে চায়, তাহলে আগে আমাদের দেহের ওপর দিয়ে চালাতে হবে, তারপর মসজিদের ওপর চালাতে পারবে। কেননা মসজিদ ধ্বংস হয়ে গেলে, আমরা বেঁচে থেকে আর কী করবো?
ভিডিও লিংক: https://x.com/TheSiasatDaily/status/2104127801905537467/video/1
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/3sz757wv


