
পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া অধিকৃত গারিসা জেলায় সম্প্রতি একটি সুপরিকল্পিত সফল অপারেশন চালিয়েছেন আশ-শাবাব সংশ্লিষ্ট ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধারা। এতে প্রায় ৩০ কেনিয়ান সৈন্য হতাহতের শিকার হয়েছে। এছাড়াও দেশটির লামু এবং ওয়াজির জেলাতেও শত্রু সামরিক ঘাঁটিতে পৃথক হামলা চালিয়েছেন প্রতিরোধ যোদ্ধারা।
আঞ্চলিক সংবাদ মাধ্যম শাহাদাহ এজেন্সি কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখ শনিবার, হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিন সংশ্লিষ্ট প্রতিরোধ যোদ্ধারা কেনিয়া অধিকৃত গারিসা ও লামু অঞ্চলে দুটি পৃথক সামরিক অপারেশন চালিয়েছেন, যা এই অঞ্চলে কেনিয়ান বাহিনী ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আশ-শাবাবের চালানো ধারাবাহিক হামলার অংশ।
সূত্রমতে, গারিসা জেলায় আশ-শাবাব যোদ্ধাদের পাতা এক সুপরিকল্পিত অতর্কিত আক্রমণে অন্তত ২৩ কেনিয়ান সেনা সদস্য (কর্মকর্তাসহ) নিহত হয়েছে; এসময় আহত হয়েছে আরও অন্তত ৫ সেনা সদস্য, এছাড়াও কেনিয়ান বাহিনীর একটি সামরিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেনিয়ার গণমাধ্যমে শাবাবের এই আক্রমণের ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে; “দ্য স্টার” পত্রিকা জানিয়েছে যে, আরপিজি (RPG) লঞ্চারসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সশস্ত্র আশ-শাবাব যোদ্ধারা এই হামলাটি চালিয়েছেন।
পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে যে, শনিবার বিকেলে নিরাপত্তা টহল চালানোর সময় কেনিয়ান বাহিনীকে লক্ষ্য করে আশ-শাবাব যোদ্ধারা এই আক্রমণটি চালান। এতে আরও বলা হয়, একই দিন সকালে আশ-শাবাব যোদ্ধারা লামু জেলায় কেনিয়ান সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে।
কেনিয়ান কর্মকর্তাদের মতে, সকালের দিকে যোদ্ধারা ঘাঁটির পূর্ব দিক থেকে আক্রমণ শুরু করে। আশ-শাবাব যোদ্ধারা প্রথমে দুটি আরপিজি (RPG) গোলা নিক্ষেপ করে আক্রমণ শুরু করেন এবং পরে ঘাঁটির দিকে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করতে শুরু করেন।
এরপর গত ২৪শে সেপ্টেম্বর, আশ-শাবাব যোদ্ধারা কেনিয়ার ওয়াজির জেলার কারফাহরার এলাকায় সামরিক অপারেশন চালান। অভিযানটি কেনিয়ান বাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, ফলশ্রুতিতে সামরিক বাহিনীতে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
পত্রিকাটি এই অভিযানগুলোকে সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে ঘটে চলা ধারাবাহিক হামলার সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে আরও বলা হয়েছে যে, ওই অঞ্চলে কেনিয়ান বাহিনী এবং তাদের ঘাঁটিগুলো আশ-শাবাব যোদ্ধাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। আর সোমালিয়া সীমান্তবর্তী কেনিয়া অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে কর্মরত কেনিয়ান বাহিনীকে ঘিরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের মধ্যেই সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো সংঘটিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
– https://shahadaagencynews.com/?p=39926
– https://chirpwire.net/thread/1099025


