
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারে ৮ কোটি ৮ লাখ রুপি ডাকাতির ঘটনায় আত্মসমর্পণ করেছে কেরালার বিজেপি নেতা পারাপ্পিল বালাকৃষ্ণন। ৬০ বছর বয়সী এই নেতা পেশায় ওয়েল্ডার। বুধবার (২১ অক্টোবর) কেরালার কোঝিকোড়ে পুলিশের কাছে সে আত্মসমর্পণ করে।
২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তখন কাতারের দোহায় কেরালা মুসলিম কালচারাল সেন্টারের (কেএমসিসি) কার্যালয় থেকে ৩১ লাখ কাতারি রিয়াল চুরি হয়। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৮ কোটি ৮ লাখ রুপি।
স্থানীয় আদালত বালাকৃষ্ণনকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। গত বছর স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে সে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।
পুলিশের দাবি, অপরাধটি ঘটাতে কেরালা থেকে চারজনকে বিমানে কাতারে পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি আরও দুই জনের বিরুদ্ধে অপরাধীদের সহায়তা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ, ডাকাতির সময় দলের সদস্যরা কেএমসিসির এক কর্মীকে বেঁধে রাখে। এরপর ধাতব কাটার দিয়ে রুমের দরজা ভাঙে, পরে নগদ রিয়াল নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
আত্মসমর্পণের আগে একটি ভিডিও রেকর্ড করে বালাকৃষ্ণন। সেখানে সে দাবি করেছে, ডাকাতির পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানত না সে। শাজি নামে এক ব্যক্তি তাকে কাতারে ওয়েল্ডিংয়ের কাজের প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই ব্যক্তি বম্বে শাজি নামেও পরিচিত।
বালাকৃষ্ণনের দাবি, দোহায় পৌঁছানোর পর তাকে কেএমসিসির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হুমকি দিয়ে তাকে লকার কাটতে বাধ্য করা হয়। তার অভিযোগ, শাজি চুরির সব রিয়াল নিয়ে চলে যায়। কামারু নামে আরেক ব্যক্তি গোটা অভিযান পরিচালনা করে।
বালাকৃষ্ণন আরও জানায়, কাতারে তাকে ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। কেরালায় ফেরার পর আরও দেড় লাখ রুপি পায় সে। যদিও তাকে আরও বেশি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে শাজি ও কামারু ডাকাতির অর্থ নিয়ে আলোচনা করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অডিওতে একজনকে ডাকাতি করা অর্থের ভাগ চাইতে শোনা যায়। সেখানে ২৫ কোটি রুপির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশের মামলায় উল্লেখ করা টাকার পরিমাণের চেয়ে এই অঙ্ক অনেক বেশি।
কেএমসিসির কাতার শাখার সহসভাপতি পি কে আবদুল রহিমের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ মামলা দায়ের করে। উক্ত ঘটনার মামলার ক্ষেত্রে প্রায় এক বছরের বিলম্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চুরি হওয়া টাকা ‘স্নেহ সুরক্ষা’ নামে একটি কল্যাণ প্রকল্পের বলে জানা গেছে। কাতারে বসবাসকারী মালয়ালি প্রবাসীদের (কেরালার স্থানীয় বাসিন্দা) সহায়তার জন্য এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, কেএমসিসি কেরালার কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ জোটসঙ্গী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/yepef3dr


