ভারতের মহারাষ্ট্রে সরকারি অফিসে নামাজ আদায়ের ঘটনাকে নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের ব্যাপক তোলপাড়

0
0

ভারতের মহারাষ্ট্রে মালেগাঁও পৌর কর্পোরেশন বিদ্যুৎ বিভাগ অফিসে একদল মুসলিম বাসিন্দার আসরের নামাজ আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতারা। তাদের দাবি, ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র, সরকারি দপ্তরে প্রকাশ্যে নামাজ পড়া এই রাষ্ট্রে অনুমোদিত নয়।

স্থানীয় একটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট সমস্যা মোকাবেলা করছিল। তাই মালেগাঁও লোক-সংঘর্ষ সমিতির সভাপতি লোকমান কামালের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা পৌর কর্পোরেশন বিদ্যুৎ বিভাগে অভিযোগের উদ্দেশ্যে গমন করে।

বাসিন্দারা জানায়, উক্ত দিন বিকাল ৩টায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের সাক্ষাতের একটি পূর্বনির্ধারিত সিডিউল ছিল। কিন্তু কর্মকর্তারা তাদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য করেছিল।

এক সময় আসরের নামাজের সময় ঘনিয়ে আসলে বাসিন্দারা বিদ্যুৎ অফিসেই নামাজ আদায় করে নেয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, মসজিদে নামাজের জন্য অফিস ত্যাগ করলে কর্মকর্তারাও আজকেও সাক্ষাত বাতিল করতে পারে। কেননা এর আগেও বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো বারবার উপেক্ষা করা হয়েছিল।

২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার উক্ত নামাজ আদায়ের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে ঘটনাটি নিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি করে দেয়।

মহারাষ্ট্র রাজ্যের এক মন্ত্রী নীতেশ রানে সাংবাদিকদের বলেছে, ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র। এখানে সরকারি অফিসে এভাবে নামাজ পড়তে দেওয়া হয় না। সে কটাক্ষ করে জানায়, এরা কি মালেগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছে নাকি জিহাদ করার জন্য? এত মসজিদ থাকতে এরা অফিসে নামাজ পড়বে কেন?

মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করে দিতে তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা পুনরায় তুলে ধরেছে এই হিন্দুত্ববাদী মন্ত্রী, সে মাদ্রাসাকে জঙ্গি বানানোর কেন্দ্র বলে অপবাদ দিয়েছে।

প্রাক্তন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সাংসদ কিরিট সোমাইয়া মহারাষ্ট্রের মুখমন্ত্রীকে এক বার্তায় জানায়, সরকারি অফিসে প্রকাশ্য নামাজ পড়া অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়। সে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীদের সাসপেন্ড ও সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার মত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

উক্ত ঘটনা পাবলিক ও সরকারি স্থানসমূহে নামাজের মত ফরজ বিধান পালনের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের ব্যাপক কঠোরতা প্রয়োগের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়েছে। মুসলিম বাসিন্দাগণের দাবি, প্রশাসনিক অবহেলা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উস্কানি উভয়ই এই তোলপাড় সৃষ্টির ঘটনায় ইন্ধন যুগিয়েছে।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/mvtjwsbu
2. https://tinyurl.com/39ac53ry

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধভিডিও || আগ্রাসকদের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ফরজ: শায়খ আবদুল হাদী হেমাত হাফিযাহুল্লাহ