
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সংযোগ জোরদারের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পুনর্গঠন কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর হাইরাতান–মাজার-ই-শরীফ রেলপথের পঞ্চম স্টেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইমারাতে ইসলামিয়ার অর্থনৈতিক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদার হাফিযাহুল্লাহ বলেন, আফগানিস্তান এখন এমন এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে যেখানে বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রকল্প, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি উজবেকিস্তানের সহযোগিতার প্রশংসা করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আফগানিস্তানে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
মোল্লা বারাদার বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ আফগানিস্তান ও উজবেকিস্তানের সম্পর্ক অতীতের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিস্তৃত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে এমন একটি পর্যায় আসবে, যখন দুই দেশের জনগণের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই সফরের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী পরিবহন ব্যবস্থা ও রেল নেটওয়ার্ক একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে এবং ইমারাতে ইসলামিয়া এ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছে।
গণপূর্তমন্ত্রী মোহাম্মদ ঈসা সানি দেশের রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানান, উজবেকিস্তানের সহযোগিতায় ৬৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হাইরাতান–হেরাত রেলপথের জরিপ কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ইমারাতে ইসলামিয়ার নিজস্ব অর্থায়নে ৮৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হেরাত–কান্দাহার–স্পিন বোলদাক রেলপথের জরিপ ও ডিজাইন কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “হেরাত থেকে ফারাহ, ফারাহ থেকে নিমরোজ, নিমরোজ থেকে হেলমান্দ, হেলমান্দ থেকে কান্দাহার এবং কান্দাহার থেকে স্পিন বোলদাক পর্যন্ত বিস্তৃত এই বৃহৎ রেলপথ প্রকল্প ভবিষ্যতে আফগানিস্তানকে একটি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক করিডোরে পরিণত করবে।”
বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরাও এই প্রকল্পকে দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। বালখ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান মোহাম্মদ ইব্রাহিম গজনফর বলেন, রেলপথ সম্প্রসারণের ফলে পরিবহন ব্যয় ও সময় উভয়ই কমবে, রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এদিকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের রেলপথে পণ্য পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বন্দরগুলো এখন ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার টন পণ্য রেলপথে পরিবহন করা হচ্ছে, যার প্রায় ৭০ শতাংশই হাইরাতান বন্দর দিয়ে প্রবেশ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রেল অবকাঠামোর এই ধারাবাহিক উন্নয়ন আফগানিস্তানকে শুধু অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করবে না, বরং দেশটিকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও ট্রানজিট কেন্দ্রে পরিণত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র
1.Fifth Railway Station Opened in Mazar-e-Sharif
– https://tinyurl.com/49a6u2zb


