
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজার, প্রতিবেশী মালির মতো এখানেও সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে আল-কায়েদা শাখা জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)। দেশটির জান্তা বাহিনীর নিরাপত্তার দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত অঞ্চলগুলোর দিকে অগ্রসর এবং এর উপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছেন জেএনআইএম মুজাহিদিনরা।
জেএনআইএম মুজাহিদিনরা বর্তমানে নাইজারের জান্তা বাহিনীর সামরিক ব্যারাক নিয়ন্ত্রণ, গ্রামীণ এলাকা ঘিরে ফেলা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো কৌশল বাস্তবায়ন করছেন। আঞ্চলিক সংবাদ প্রচার চ্যানেল আয-যাল্লাকা সম্প্রতি নাইজারের টিলাবেরি রাজ্যের জেএনআইএম এর ৩টি অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই অভিযানগুলোর একটি গত ১৪মে বৃহস্পতিবার, নাইজারের টিলাবেরি রাজ্যের গারমুয়া শহরে চালানো। অভিযানে অংশ নেন জেএনআইএম এর কাতিবা হানিফা (ব্রিগেডের) মুজাহিদিনরা, যারা ভারী অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে নাইজেরীয় জান্তার একটি সামরিক প্রকৌশল ইউনিটের ব্যারাক লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ চালান।
মালির সীমান্তবর্তি গারমুয়ায় জান্তার সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মুজাহিদদের পরিচালিত এই অভিযানে অন্তত ৬৭ জান্তা ও ভিডিপি সদস্য নিহত হয়। এসময় মুজাহিদিনরা সামরিক ব্যারাকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি বহু অস্ত্র শস্ত্র গনিমত হিসাবে জব্দ করেন।
স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২০মে বুধবার, ফের টিলাবেরি রাজ্যে আরও ২টি সামরিক অপারেশন চালান জেএনআইএম মুজাহিদিনরা। প্রথমটি রাজ্যের গারমুয়া শহরে অবস্থিত জান্তা বাহিনীর একটি সামরিক ব্যারাক লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি মর্টার শেল নিক্ষেপের মাধ্যমে চালানো হয়েছে। দ্বিতীয়টি রাজ্যের পূর্ব করাসি/কারতাসি এলাকায় জান্তা বাহিনীর আরও একটি সামরিক ব্যারাক লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। মুজাহিদদের এই হামলায় সার্জেন্ট মেজর ইউসুফ হামেদিন বুজুসহ ১২ জান্তা সদস্য নিহত এবং ৫ জান্তা সদস্য আহত হয়েছে, সেই সাথে মুজাহিদিনরা আরও ৫ জান্তা সদস্যকে বন্দী করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বন্দী জান্তা সদস্যদেরকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যেতে দেখেছেন।
সূত্রমতে, মুজাহিদিনরা এই অভিযানের মাধ্যমে সামরিক ঘাঁটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছেন। এসময় মুজাহিদিনরা বেশ কয়েকটি সামরিক যান ধ্বংস ও আরও কয়েকটি গনিমত হিসাবে জব্দ করেছেন। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মুজাহিদিনরা সামরিক ঘাঁটি থেকে উদ্ধার করেছেন।
এই সপ্তাহে জেএনআইএম এর ৩টি হামলাই তৃসীমান্ত অঞ্চল ডোরি, টেরা এবং গোথেয়ে অঞ্চলের মধ্যবর্তি এলাকাগুলোতে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে পূর্ব থেকেই খারেজি গোষ্ঠী আইএসের সক্রিয় অবস্থান রয়েছে। অপর দিকে জেএনআইএম এই সীমান্ত অঞ্চলগুলো থেকে অনেকটা দূরে দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থান করছিল। আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, নাইজার, মালি এবং বুরকিনা ফাসোর মধ্যকার অস্থিতিশীল ত্রিভুজ সীমান্তে হামলা বৃদ্ধির মাধ্যমে মূলত, জেএনআইএম মালি এবং বুরকিনা ফাসোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত অঞ্চলগুলোকে আইএসের হামলা থেকে নিরাপদ করার কৌশল অবলম্বন করছে।
মাঠ পর্যায়ে জেএনআইএম এর এই কৌশলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, দলটি বর্তমানে অতর্কিত হামলা ও পিছু হটার কৌশল থেকে সরে এসে একটি পরিকল্পিত ক্ষয়কারী যুদ্ধের দিকে ঝুঁকছে, যার লক্ষ্য জান্তার থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে বিচ্ছিন্ন করা, ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য পথ ধ্বংস করা এবং ধীরে ধীরে প্রান্তিক অঞ্চলগুলোকে জান্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাওয়া। এর ফলে নাইজেরীয় জান্তা বাহিনী এখন একটি জটিল নিরাপত্তা ফাঁদে আটকা পড়েছে। কেননা পূর্বে আইএস ধ্বংসাত্মক হামলা চালালেও তা ছিলো জনবিচ্ছিন্ন, কিন্তু জেএনআইএম তাদের বিপরীতে শরিয়াহ ও সামাজিক অনুপ্রবেশের উপর ভিত্তি করে একটি ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অগ্রসর হচ্ছে। এতে করে জেএনআইএম শুধু এলাকা আর সামরিক ঘাঁটিই নিয়ন্ত্রণ করছে না বরং তারা মানুষের হৃদয়ও জয় করে নিচ্ছেন।
তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/ycy4dcsn
– https://tinyurl.com/uzw46jsy
– https://tinyurl.com/mr3zjms2


