
দীর্ঘ চার দশকের যুদ্ধ, বিদেশি দখল এবং অর্থনৈতিক অবরোধের ধকল কাটিয়ে আফগানিস্তান যখন ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমের একাংশ এখনো দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরার পরিবর্তে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করছে। সম্প্রতি BBC World Service গোর প্রদেশের একটি দুঃখজনক কিন্তু ব্যতিক্রমী ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা অনেকের মতে আফগানিস্তানের সামগ্রিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না; বরং দেশের চলমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে আড়াল করে নেতিবাচক ধারণা তৈরির আরেকটি উদাহরণ।
সমালোচকদের মতে, আফগানিস্তানে বর্তমানে খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, শিল্পায়ন, কৃষি উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয়-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে। কিন্তু এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের পরিবর্তে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বারবার এমন ঘটনাকেই প্রাধান্য দেয়, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং ইসলামী শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একপেশে ধারণা তৈরি করে।
নিঃসন্দেহে দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সংকট আফগানিস্তানের জন্য একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ কয়েক দশকের যুদ্ধ, বিদেশি দখল, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈদেশিক সহায়তা হ্রাসের কারণে বহু পরিবার এখনো কষ্টের মধ্যে রয়েছে। তবে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা সমগ্র দেশের বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করা সাংবাদিকতার ভারসাম্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অনেকেই মনে করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আফগানিস্তানে গত কয়েক বছরে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি হ্রাস, খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প বিনিয়োগ, কৃষি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশে নতুন কারখানা, আবাসন প্রকল্প, সড়ক, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী করছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, এসব ইতিবাচক পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পায়। পরিবর্তে, ব্যতিক্রমী ও হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন সেটিই পুরো দেশের একমাত্র চিত্র।
তারা আরও বলেন, মানবিক সংকটের সংবাদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; তবে সেই সঙ্গে সমস্যার কারণ, প্রেক্ষাপট এবং সমাধানের প্রচেষ্টাও তুলে ধরা উচিত। একতরফা প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আফগানিস্তান সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণা তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সামাজিক উন্নয়নকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হলে ইতিবাচক অগ্রগতি এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ—উভয় দিকই ভারসাম্যপূর্ণভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আফগানিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ও ব্যতিক্রমী ঘটনাকে পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়সঙ্গত নয়। বর্তমানে দেশে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি দৃশ্যমান, তা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো বাস্তবতাকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা—যেখানে যেমন মানবিক চ্যালেঞ্জের কথা থাকবে, তেমনি সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চলমান প্রচেষ্টা, উন্নয়ন ও জনগণের অর্জনও যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।
তথ্যসূত্র
1.BBC: Poverty and Hunger in Ghor Force Families to Sell Their Children
– https://tinyurl.com/3mxkmypd


