
ভারতে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে অবস্থিত বরকতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘বাগদেবী ভোজপাল বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যনির্বাহী পরিষদ। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি রাজ্যপালের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। মুসলিম সংস্কৃতি ও অবদান বিলুপ্ত করে একচেটিয়াভাবে হিন্দুয়ানী ন্যারেটিভ প্রচারের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন। ৪ জুন দি অবজারভার পোস্ট সংবাদ মাধ্যমে নিউজটি তুলে ধরা হয়েছে।
ভোপাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৯৭০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী মাওলানা বরকতউল্লাহ ভোপালির সম্মানে এটি ‘বরকতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে নামকরণ করা হয়। বরকতউল্লাহ ভোপালির একজন বিশিষ্ট বিপ্লবী নেতা, যিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করেছিলেন।
তিনি একজন আলেম ও সাংবাদিক হিসেবে সম্মানিত ছিলেন। তিনি আরবি, ফার্সি, ইংরেজি ও জাপানি সহ বেশ কয়েকটি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি ইংল্যান্ড ও জাপানের মতো দেশে শিক্ষকতা করেছিলেন। এছাড়া ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সমর্থনে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, তুরস্ক, আফগানিস্তান ও সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ করেছিলেন।
অপরদিকে পরিবর্তিত নতুন হিন্দুয়ানী নামে ‘বাগদেবী’ শব্দটি হিন্দুদের দেবীর সাথে সম্পৃক্ত। এছাড়া ‘ভোজপাল’ বলতে ১১ শতকের রাজা ভোজকে বোঝানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বেশ কয়েকটি স্থান ও প্রতিষ্ঠানের মুসলিম নাম পরিবর্তন করে হিন্দুয়ানী নামকরণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের হাবিবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এর নাম ‘রানী কমলাপতি’র নামে নামকরণ করা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/5n6bcdrb


