
ভারতে তেলেঙ্গানা রাজ্যের মাহাবুবনগর জেলায় গভীর রাতে ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনার জের ধরে নববিবাহিত মুসলিম দম্পতির ওপর হামলা চালিয়েছে এক দল উগ্র হিন্দুত্ববাদী। ১৭ জুন অবজারভার পোস্ট সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, ঘটনাটি আগের দিন রাত ১১টার দিকে মাহাবুবনগরের এসভিএস হাসপাতালের নিকটে ঘটেছে। এই সময় মোহম্মদ তালহা ও তার স্ত্রী ফারহানা বেগম সাদনগর থেকে মাহাবুবনগর যাচ্ছিলেন। তাদের গাড়িটি সড়কের পাশে ব্যারিকেডের নিকটে একটি ছোটখাটো দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়, এই দুর্ঘটনায় একদল নেশাগ্রস্ত যুবক সম্পৃক্ত ছিল।
এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ফারহানা বেগম বোরখা পরিহিত থাকায় দম্পতি উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের টার্গেটে পরিণত হয়।
দুর্ঘটনার অল্পক্ষণ পরেই নিকটবর্তী রামদাস তান্ডা এলাকা থেকে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন লোক ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। তারা মুসলিম দম্পতিকে লাঞ্ছিত করতে আরম্ভ করে। তখন স্থানীয় মুসলিমরা ভুক্তভোগীদের সাহায্যের জন্য ছুটে আসে এবং হামলাকারীদের হাত থেকে তাদেরকে রক্ষার চেষ্টা করে। কিন্তু একটু পরেই প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি উগ্রবাদী দল পুনরায় হামলা আরম্ভ করে।
তারা ফারহানা বেগমকে বারবার মারধর করে, টেনে এসভিএস হাসপাতাল প্রাঙ্গণের দিকে নিয়ে যায়। এসময় তার পাঁজরে আঘাত লাগে। এছাড়া মোহাম্মদ তালহা ও তার চাচাতো ভাইও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে জানা যায়। ভুক্তভোগীদের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং প্রকাশ্যে তাদেরকে অপমান করা হয়।
সহিংসতাকালে ফারহানা বেগমের অলংকার হারিয়ে যায়, যা চুরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাটি স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। মুসলিম পরিচয়ের কারণে উক্ত দম্পতি টার্গেটে পরিণত হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় জনগণ।
গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশ সহিংসকারীদের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এর ফলে স্থানীয়দের বিক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় অভিযোগ গঠনের দাবি জানিয়েছেন মুসলিম বাসিন্দাগণ।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/472exdsm


