
ভারতের মহারাষ্ট্রে সড়কে রুটিন ডিউটিকালে এক হিন্দুত্ববাদী ট্রাফিক পুলিশ একজন ট্রাক চালককে হেনস্তার লক্ষ্যে তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করেছে। হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও ট্রাক চালককে ‘মুসলিম’ বলে পরিচয় করিয়ে তাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছে অভিযুক্ত ঐ পুলিশ কর্মী।
২৮ জুন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হিন্দু ট্রাক চালক শ্যামলাল রাও ও পুলিশ কর্মীদের মধ্যে তীব্র বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়।
তর্ক তীব্রতর হয়ে উঠলে পুলিশ সদস্য ভুক্তভোগী রাওকে গাদ্দার বলে অভিযুক্ত করে বলে, “তুই কি মুসলমান?” পুলিশ সদস্যের মন্তব্যে এমন ইঙ্গিত প্রকাশ পায়, যেন মুসলমানদের আচরণই গাদ্দারী ও প্রতারণামূলক হয়ে থাকে।
ভুক্তভোগী রাও পুলিশের এ মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে উঠে। নিজের ধর্মীয় পরিচয় স্পষ্ট করে সে বলে যে, সে রাজস্থানের জাট সম্প্রদায়ভুক্ত হিন্দু। এখানে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন টেনে আনা হল তা নিয়ে সে বারবার অভিযোগ করতে থাকে, “মুসলমান নাকি হিন্দু, এটা কোন ধরনের কথা হলো?”
সে ট্রাফিক পুলিশকে আচরণ সংশোধন করার ইঙ্গিত দিয়ে বলে, সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাদেরকে অবশ্যই নাগরিকদের সাথে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে, তাদের ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা উচিত নয়।
অবশেষে একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে হস্তক্ষেপ করে। সে ভুক্তভোগী রাও এর অভিযোগ শুনে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।বৈষম্যমূলক মন্তব্যের জন্য জড়িত ট্রাফিক কনস্টেবলকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি করে ট্রাক চালক রাও। আর এ ঘটনায় পুলিশ কর্মীর আচরণকে অপেশাদার ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে নিন্দা জানিয়েছে সমালোচকরা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতে ‘মুসলিম’ শব্দটিকে একটি অপমানজনক ও নিপীড়নযোগ্য পরিচয় হিসেবে চিত্রায়িত করতে সব ধরনের অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার ও সমর্থকগোষ্ঠী।
ভিডিও: https://www.instagram.com/reel/DaDZ-XnJ27U/
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/yptbsmd8

