
শক্তি ও আগ্রাসনের রাজনীতি কখনোই কোনো জাতিকে স্থায়ী শান্তি বা নিরাপত্তা এনে দেয়নি—ইতিহাসের এই সত্য আবারও প্রমাণিত হচ্ছে পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার দায় অন্যের ঘাড় চাপিয়ে দিয়ে তারা আফগানিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে। নিরপরাধ শিশু ও অসহায় মানুষদের হত্যা করে কোন সাফল্য অর্জন করা যায় না—এটি শক্তির বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট আড়াল করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা।
পাকিস্তানের সামরিক শাসক গোষ্ঠী বহু বছর ধরে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করাকে একটি কার্যকর নিরাপত্তা কৌশল মনে করলেও বাস্তবে তা জনগণের কাছে তাদের বিচ্ছিন্নতা আরও গভীর করেছে। সাম্প্রতিক বিমান হামলায় আফগানিস্তানের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকা আবারও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। নিরপরাধ মানুষকে হত্যা এবং আবাসিক এলাকায় বোমাবর্ষণ কোনোভাবেই বৈধ সামরিক অভিযান হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এসব হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও বিপন্ন করেছে এবং দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থাকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বহু বছর ধরেই পাকিস্তান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বহুমুখী সংকটে নিমজ্জিত। অথচ এসব সংকটের কার্যকর সমাধান খোঁজার পরিবর্তে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন এবং সীমান্ত অতিক্রম করে সামরিক আগ্রাসন চালানোর পথই বারবার বেছে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ ধরনের নীতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি; বরং সংকটকে আরও গভীর করেছে এবং নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
আফগানিস্তানের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই ভূখণ্ডকে শক্তি ও আগ্রাসনের মাধ্যমে কখনো বশীভূত করা সম্ভব হয়নি। অতীতে বিশ্বের বহু শক্তিধর সাম্রাজ্য উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা নিয়েও আফগান জনগণের প্রতিরোধের মুখে পরাজিত হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাই সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে আফগান জাতির মনোবল ভেঙে দেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টার পরিণতিও অতীতের ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ছাড়া অন্য কিছু নয়।
আবাসিক এলাকা, মসজিদ ও জনসমাগমস্থলে হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নারী ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে পরিচালিত হামলা কেবল মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনে না, বরং মানুষের মনে ক্ষোভ, প্রতিরোধ ও বৈরিতাকে আরও তীব্র করে তোলে। নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে কোনো রাষ্ট্র নিরাপত্তা বা মর্যাদা অর্জন করতে পারে না।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের সমাধানও আফগান ভূখণ্ডে নয়; বরং নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান, জনগণের আস্থা অর্জন এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার মধ্যেই নিহিত। শক্তি ও আগ্রাসনের নীতি কেবল সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করে।
তথ্যসূত্র
1. The Futility of Power Through Violence
– https://tinyurl.com/d8u4pptw


