
ভারতের গুজরাটে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে মুসলিম সমাজ। মুসলমান যুবক, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় একটি উল্লেখযোগ্য শক্তি হিসেব আবির্ভূত হয়েছে।
আহমেদাবাদ, ভাদোদরা, বারুচ এবং বানাসকান্থাসহ বন্যা কবলিত বিভিন্ন জেলায় আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে নৌকা ব্যবহার করছেন মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকগণ। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ধ্বংস অভিযান থেকে বেঁচে যাওয়া মসজিদ-মাদ্রাসাগুলোই এখন বন্যার্তদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মুসলিমরা বন্যা দুর্গত জনগণের নিকট আবাসন, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। মুসলিমদের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও কমিউনিটি ট্রাস্ট বড় পরিসরে অস্থায়ী লঙ্গরখানা স্থাপন করেছে, যেখানে হাজার হাজার লোকের জন্য প্রতিদিন খাবার তৈরি করা হচ্ছে।
ত্রাণ বিতরণ, মেডিকেল ক্যাম্প, স্যানিটেশন এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতা করছেন মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকগণ। মুসলিম ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও সমাজকর্মীরাও পিছিয়ে নেই, তারা প্রত্যন্ত গ্রামে সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
বন্যা কবলিত অঞ্চল হতে নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের উদ্ধার প্রচেষ্টায় মুসলিমদের অবদান স্থানীয় বাসিন্দাদের নিকট বেশ প্রশংসা অর্জন করেছে।
উল্লেখ্য যে, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে গুজরাটে ২৩ জন প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সুরাট জেলায় সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে অসংখ্য মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সরকারি তথ্যমতে, কেবল সুরাট থেকেই ৩,৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩,৮০০ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ৭,৫২২ জন মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/2kpepnjt


