
২৭ জুলাই আফগানিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায় মাইওয়ান্দের যুদ্ধের ১৪৬তম বার্ষিকী। ১৮৮০ সালের এই দিনে দ্বিতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান যুদ্ধ মাইওয়ান্দে (মাইওয়ান্দ) আফগান বাহিনী ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে চরম পরাজয় বরণ করতে বাধ্য করে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আফগানদের ঐতিহাসিক বিজয় শুধু একটি যুদ্ধজয়ের ঘটনা নয়, বরং স্বাধীনতা, ঈমান, আত্মত্যাগ ও বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবিচল প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে আজও স্মরণ করা হয়।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট সব পরাশক্তির আগ্রাসনের মুখেও আফগান জাতি অভিন্ন ঈমানী চেতনায় প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করেছে।
১৮৮০ সালের ২৭ জুলাই কান্দাহারের নিকটবর্তী মাইওয়ান্দের ময়দানে আফগান বাহিনী ব্রিগেডিয়ার-জেনারেল জর্জ বারোজের অধীনে ব্রিটিশ ও ভারতীয় সৈন্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীর মুখোমুখি হয়। প্রচণ্ড লড়াইয়ের পর ব্রিটিশ বাহিনী সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয় এবং পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই যুদ্ধে প্রায় ৯৬৯ জন ব্রিটিশ ও ভারতীয় সৈন্য নিহত এবং ১৭৭ জন আহত হয়। অন্যদিকে, আফগান বাহিনীর ২,০৫০ থেকে ২,৭৫০ জন মুজাহিদ শহীদ হন।
যুদ্ধের পরিণতি ছিল সুদূরপ্রসারী। এই পরাজয় ব্রিটিশদের আফগানিস্তানে তাদের সামরিক অভিযান কতটা কঠিন ও ব্যয়বহুল তা শিক্ষা দেয় এবং ভিক্টোরিয়ান ইংল্যান্ড জুড়ে এটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আজও মাইওয়ান্দের যুদ্ধ আফগান ্মুসলিমদের পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা সাহস এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। এই যুদ্ধ আফগানিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
আফগানিস্তানের ইতিহাসে এটি ছিল বিদেশি দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ সংগ্রামের উজ্জ্বল এক অধ্যায়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পর ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায়। প্রায় এক দশকব্যাপী সেই যুদ্ধে সোভিয়েত বাহিনী ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালালেও শেষ পর্যন্ত আফগান মুজাহিদদের প্রতিরোধের মুখে ১৯৮৯ সালে পরাজিত হয়ে এই মুসলিম ভূমি ছাড়তে বাধ্য হয়।
আফগানিস্তানে ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাজয় সত্ত্বেও, পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট ফের দেশটিতে আগ্রাসন শুরু করে। কিন্তু দীর্ঘ ২০ বছরের যুদ্ধে মুজাহিদদের কাছে তাদেরও লজ্জাজনক পরাজয় ঘটে।
এভাবে ব্রিটেন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকাকে পরাজিত করে আফগানরা বরাবরই প্রমাণ করেছেন যে, আফগানিস্তান কখনোই কোন দখলদার বা কোন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি দখল করতে পারবে না। যদি কখনও এমনটি ঘটেও যায়, তবে আফগান জাতি পূর্বে যেমন ত্যাগ স্বীকার করেছেন আবারও তাঁরা শত্রুদের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবে; এভাবে নিজেদের জাতি ও ইসলামকে রক্ষায় নিজেদের সর্বস্ব ত্যাগ করতে তাঁরা সদা প্রস্তুত থাকবেন ইনশাআল্লাহ।
ইতিহাস এই সত্যের সাক্ষ্য দেয় যে, যে জাতি মহান আল্লাহর পথে জিহাদ এর মাধ্যমে নিজেদের স্বাধীনতা অর্জন ও দখলদারদের বিতাড়নের চেষ্টা করেছে তারা সফল হয়েছেন। আফগান মুসলিমরা দ্বীনের এই মহা বিধান আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে যুগে যুগে প্রতিটি পরাশক্তিকে পরাজিত করেছেন। আর এ জন্য বিশ্বদরবারে এ ভূখণ্ড সাম্রাজ্যবাদের কবরস্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
তথ্যসূত্র
1. Today (July 27) marks the 146th anniversary of the historic Battle of Maiwand.
– https://tinyurl.com/3mb2ay7b
2.26th of Dalwa, a reminder of the indomitable spirit of innocent Afghans in resistance against invaders
– http://tinyurl.com/dkm85sem


