প্রভাবশালীদের স্থাপনা রেখে ছোট স্থাপনা উচ্ছেদ করলো কথিত সরকারি বাহিনী

0
1219
প্রভাবশালীদের স্থাপনা রেখে ছোট স্থাপনা উচ্ছেদ করলো কথিত সরকারি বাহিনী

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রেলওয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভেঙে দেওয়ার জন্য বাচাইকৃত লাল ক্রস দেওয়া কয়েক ২৫০টি অবৈধ স্থাপনার ভেতর শুধুমাত্র দরিদ্রদের স্থাপনাগুলি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য কারও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি।

জানা গেছে, আলমডাঙ্গার রেলস্টেশন থেকে লাল ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত রেলওয়ে জায়গায় অবৈধভাবে কয়েক শ মানুষ পাকা ও আধা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। গত কিছুদিন আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ লিজ গ্রহণসহ বৈধ-অবৈধ স্থাপনার তালিকা প্রকাশ করে। কয়েক মাস পূর্বে রেলওয়ে পাকশি জোনের পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে লাল ক্রস দিয়ে সেগুলি সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন। গত কয়েক দিন আগে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য স্টেশন এলাকায় মাইকিং করে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেন। ২৯ ডিসেম্বর রবিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী জোনের বিভাগীয় ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেন, রেলওয়ে পুলিশের এসআই জালাল উদ্দিন ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের এস আই জিয়াউর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সে সময় ২৫০টি অবৈধ চিহ্নিত স্থাপনার মধ্যে রেলস্টেশনের পাশের কয়েকটি দোকান ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। পরে লালব্রিজ সংলগ্ন পশুহাট এলাকার কয়েকটি দোকান ঘর ভাঙা হয়।

এদিকে, কয়েক ২৫০টি অবৈধ চিহ্নিত স্থাপনার মধ্যে কিছু মাত্র উচ্ছেদ করার ঘটনা সাধারণ মানুষ নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছে যে ২৫০টি অবৈধ চিহ্নিত স্থাপনার মধ্যে শুধু দরিদ্রদের ছোট ছোট কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে অভিযান চালিয়ে। আসলে প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য দখলদারদের স্পর্শ করেনি উচ্ছেদ অভিযান। অনেকেই রেলওয়ের এ উচ্ছেদ অভিযানকে আইওয়াশ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তাদের দাবি, প্রভাবশালী দখলদারদের লাখ লাখ টাকায় কিছু সরকারি কর্মকর্তা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে। যাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের অনেকেই জানান,  রেলওয়ের কানুনগো ও নুরুজ্জামান কিছুদিন আগে এসেছিলেন। তারা তাদের সাথে যোগাযোগ করে কাগজ করে নেওয়ার কথা বলেছিল। কাগজ করার জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। অতো টাকা জোগাড় করতে পারিনি। তবে সে সময় সমিতি করে প্রভাবশালী কয়েকজন অবৈধ দখলদার ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে দিয়ে আসে।

উচ্ছেদের শিকার শফিকুল, আবুল হাসান, জসিম নামের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানায়, অবাক করার বিষয়, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এই চলামান উচ্ছেদ অভিযানকে একটি পক্ষ বির্তকিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রেলওয়ে উচ্ছেদের নামে বাণিজ্য গড়ে তুলেছে তারা। মোটা অংকের টাকা দিলে বৈধ আর দিতে না পারলে অবৈধ। কেউ কেউ বলছে, যাদের স্থাপনায় ক্রস চিহ্ন একে দিয়েছিল, তাদের বহু দোকানদারের দোকান উচ্ছেদ করেনি। যে কারণে উচ্ছেদ অভিযান বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। এমনকি কুমার নদের মাঝে যারা অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা করছে সেগুলিও স্পর্শ করেনি অথাকথিত অভিযান। নদীর মাঝের স্থাপনা কীভাবে বৈধ হয়? কীভাবে তা লিজ হয়? এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

উচ্ছেদকৃত দোকান মালিকেরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা ছোট পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করছি। ব্যবসার টাকায় আমরা সংসার চালিয়ে যায়। ইতোমধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কাগজ করার জন্য জানায়। কাগজ করার জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা মোটা অংকের টাকা দাবি করে।

শফিকুল, আবুল হাসান, জসিম নামের ব্যবসায়ীরা আরো জানায়, অবাক করার বিষয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এই চলামান উচ্ছেদ অভিযানকে একটি পক্ষ বির্তকিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রেলওয়ে উচ্ছেদের নামে বাণিজ্য গড়ে তুলেছে। মোটা অংকের টাকা দিলে বৈধ আর দিতে না পারলে অবৈধ। কেউ কেউ বলছে, যাদের স্থাপনায় ক্রস চিহ্ন একে দিয়েছিল, তাদের বহু দোকানদারের দোকান উচ্ছেদ করেনি। যে কারণে উচ্ছেদ অভিযান বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ বলছে আমরা শুধু মাত্র অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছি।

সুত্রঃ কালের কন্ঠ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন