শান্তি প্রতিষ্ঠায় দখলদারিত্বের অবসান অপরিহার্য

0
356

গোটা আফগান জাতি, বিশেষ করে রাজনৈতিক মহল এ বিষয়ে একমত যে, মার্কিন দখলদারিত্ব আফগান সঙ্কটের মূল কারণ। যতদিন পর্যন্ত বিদেশি শক্তি আফগানিস্তানে অবস্থান করবে ততদিন পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানের প্রতিটি প্রান্ত থেকে এই দাবি শোনা যাচ্ছে যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দখলদারিত্বের অবসান হোক।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক দল এবং সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন ওজর-আপত্তি ও বাহানা বাদ দিয়ে অনতিবিলম্বে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
আফগান জাতি একদিক থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আমেরিকার প্রতি দখলদারিত্ব অবসানের আহ্বান জানিয়েছে, অপরদিকে অবৈধ ও দুর্নীতিগ্রস্ত আশরাফ গনীর সরকারকে সতর্ক করেছে, তারা যেন নিজেদের স্বার্থে শান্তি প্রক্রিয়া বানচাল করার বা দীর্ঘায়িত করার অপচেষ্টা না চালায়।
সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ আফগানরা ব্যাপকভাবে মার্কিন বিমান হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং এর নিন্দা করছে। পাশাপাশি তারা আফগান সেনাদের প্রাণঘাতী নৈশ হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং একে তারা সম্পূর্ণ অনৈতিক বলে নিন্দা জানিয়েছে।
প্রতিবাদ ও নিন্দার আওয়াজ আফগানিস্তানের সর্বত্র শোনা যাচ্ছে। এতে বোঝা যায় যে, দেশের মানুষ দখলদারিত্বের অবসান চায়। দখলদার ও তার অনুগতরা “জনগণের শাসন” এর মিষ্টি বার্তা শোনাচ্ছে দুই দশক ধরে। তারা যদি আসলেই জনগণের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে থাকে তাহলে তাদের উচিত জনগণের কথা শোনা এবং সে মতে কাজ করা। তারা মিডিয়ার শক্তি ও মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জনগণের মুখ বন্ধ করতে পারবে না। বরং এ ধরনের জাতীয় ইস্যুকে এবং জনমতকে উপেক্ষা করার ফলে তাদের পরাজয় ত্বরান্বিত হবে।
আফগান জনগণের মত ইসলামী ইমারাহ দখলদারিত্ব অবসানের ওপর জোর দিয়ে যাচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে যে, বিভিন্ন ওজর আপত্তি দেখিয়ে দখলদারিত্ব অবসানের প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করা চলমান সংকটের বড় একটি কারণ। এজন্য ইসলামী ইমারাহ মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ,তারা যেন চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে সফল করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
জনগণের কল্যাণকামিতা ও দেশের স্বাধীনতায় সর্বাধিক গুরুত্বারোপকারী ইসলামী ইমারাহ দখলদারিত্ব অবসানের লক্ষ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়াকে তারা খুবই গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। কিন্তু এক হাতে তো আর তালি বাজে না ।তাই অপরপক্ষকেও এর তাৎপর্য অনুধাবন করতে হবে এবং জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। তবেই শান্তি আলোচনা সফলতার মুখ দেখতে পারে।


আর্টিকেলটি ইসলামী ইমারত আফগানিস্তানের অফিসিয়াল ইংরেজী সাইটে গত ৮ই ফেব্রুয়ারীতে প্রকাশিত হয়। সেখান থেকে এটি অনুবাদ করেছেন মাওলানা আব্দুল্লাহ ইউনুস।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন