দিল্লিতে স্বজন খোঁজা মানুষের কান্না”-ড্রেনে ড্রেনে মিলছে লাশ!

0
357

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কেন্দ্র করে দিল্লিতে গেরুয়া সন্ত্রাসীদের গণহত্যার পর থেকে রাজধানীর নর্দমায় মিলছে লাশ। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত গত পাঁচ দিনে ১১টি পচা গলা লাশ ভেসে উঠেছে।

সব মিলিয়ে কয়েক দিনের হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাড়ে ৩০০ জন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, প্রতিদিনই হাসপাতালে স্বজনদের খোঁজে মানুষের ভিড় বাড়ছে। অনেকেই সারা দিন বসে থেকে দিন শেষে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে।

বিতর্কিত সিএএকে কেন্দ্র করে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দিল্লির উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন শহরে মুসলমানদের উপর মালাউন সন্ত্রাসীদের-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সামনেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ মুসলিমদের অসংখ্য বাড়িঘর ও দোকানপাট বেছে বেছে আগুন ধরিয়ে দেয় গেরুয়া সন্ত্রাসীরা।

টানা তিন দিন ধরে চলে এ হামলা, অগ্নিকাণ্ড। সর্বশেষ রোববার ও সোমবার নর্দমাতে পাওয়া গেছে পাঁচটি অজ্ঞাত মৃতদেহ। মরদেহগুলোর বেশির ভাগই পচে গেছে। ফলে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

নর্দমাগুলো সবই ভাসমান বর্জ্য, জলজ উদ্ভিদ ও পলির পুরু স্তরে ভর্তি, জানিয়েছেন যমুনা বিহারের বাসিন্দা কনিষ্ক কুমার। নর্দমাগুলোর কয়েকটি দিল্লি সরকারের সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অধীন; কয়েকটি আবার পূর্ব দিল্লি মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের আওতায়।

এগুলোর নেটওয়ার্ক মূলত একটি মূল নর্দমা- ‘নর্দমা নং ১’কে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে বলে দিল্লির সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এটি উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের পূর্ব যমুনা খাল থেকে শুরু হয়ে লোনি দিয়ে দিল্লিতে ঢুকেছে। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নর্দমাটি উত্তর-পূর্ব দিল্লি ও উত্তর দিল্লির বিশাল অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ওখলা বাঁধ হয়ে নয়ডা দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

চারটি বড় বড় নর্দমা বিভিন্ন এলাকা দিয়ে এই ‘নর্দমা নং ১’কে ছেদ করেছে। এর বাইরে আরও ২৪টি সরু নর্দমাও আছে।

দিল্লিতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র প্রশাসনের তৈরি করা একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্টে উঠে এসেছে। উত্তর-পূর্ব জেলার তৈরি ওই রিপোর্টে বলা হয়, এখন পর্যন্ত সহিংসতার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ১২২টি বাড়ি, ৩২২টি দোকান এবং ৩০১টি গাড়ি।

সোমবার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, চূড়ান্ত রিপোর্টে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জানা যায়, সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটদের অধীনে তৈরি ১৮টি দলের পেশ করা তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অন্তর্বর্তী রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

গেরুয়া সন্ত্রাসীদের হামলার পর থেকে এখনও প্রায় ৭ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের খোঁজে হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনেরা। মর্গে নতুন কোনো লাশ এলে সেখানে দৌড়াচ্ছেন।

জিটিবি হাসপাতালে অন্তত ৪০টি লাশ এসেছে। এর মধ্যে এখনও ১৫টি লাশ শনাক্ত করা যায়নি।

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন