চিকিৎসাখাতের দুর্দশা, এই দায় সরকার কীভাবে এড়াবে?

0
227
চিকিৎসাখাতের দুর্দশা, এই দায় সরকার কীভাবে এড়াবে?

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও তার ভয়াবহতা নিয়ে কথা বার্তা শুরু হয়েছে অন্তত তিন মাস আগে৷ কর্তৃপক্ষ বলেছিলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি আছে৷
এমনকি গতকাল বৃহস্পতিবার( ১৬ এপ্রিল) করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গণভবন থেকে ঢাকা বিভাগের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়ের সময় মিথ্যাবাদী শেখ হাসিনা বলেছে,আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়ায় করোনা পরিস্থিতি অন্য অনেক দেশের চেয়ে ভাল আছে।

অথচ, প্রকৃতপক্ষে করোনা ভাইরাসের বিষয়ে সরকারের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কী বা কেমন? প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত এক শব্দের উত্তর ‘কিছুই না‘। এক বাক্যের উত্তর, সরকারের কোনো রকম প্রস্তুতি ছিল না বা সরকার কোনো রকমের প্রস্তুতি নেয়নি।

১. করোনা ভাইরাস আক্রান্ত দেশ থেকে কেউ ফিরলে ছড়িয়ে পড়তে পারে কোভিড ১৯, তা জানা ছিল। তাহলে ঢাকা বিমানবন্দরের তিনটি থার্মাল স্ক্যানারের দুটি শুরু থেকে প্রায় দেড় মাস নষ্ট থাকলো কেন? চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কেন থার্মাল স্ক্যানার থাকলো না? দেশের সবকটি স্থল বন্দর দিয়ে দেশি-বিদেশিরা অবাধে ঢুকে গেল৷ কারো প্রায় কোনো রকম স্ক্রিনিং হলো না। সরকার জানলোই না যে, কে করোনা ভাইরাস শরীরে নিয়ে ঢুকলো আর কে সুস্থ শরীরে ঢুকলো।

২. সরকারি হিসেবে দেশে মানুষ সাড়ে ১৬ কোটি। অনুমান করা হয় ১৮ বা ২০ কোটি। দেশে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জায়গা ছিল একটি। না, কৌতুক নয়, সত্যি। করোনা কিট শনাক্তের পরীক্ষার জন্যে অপরিহার্য। দেশে তা আছে হাজার দেড়েক। কোভিড ১৯ থেকে বাঁচার জন্যে ডাক্তার-নার্সসহ হাসপাতাল কর্মীদের পিপিই ( ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম) অপরিহার্য, যা ডাক্তার-নার্সদের দেওয়া হয়নি। করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে প্রবেশের আগে আড়াই মাস সময় পেয়েছে সরকার। এই সময়ে তারা কিট ও পিপিই সংগ্রহের কোনো চেষ্টাই করেনি। এখন বলছে, ‘‘নির্দেশ দেওয়া’ হয়েছে।‘‘, ‘‘করতে হবে‘‘ ইত্যাদি!

৩. বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য শুরুতেই কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হয়৷ সেই প্রস্তুতিতে কতটা কমতি ছিল তা দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে৷

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, পিপিই ও এন নাইনটি ফাইভ মাস্কের অভাব-এসব তো আছেই৷ আতঙ্কে হাসপাতালের রাঁধুনি পালিয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের খাদ্য সংকটে পড়া, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে যাওয়ার পরও বিনা নোটিশে চিকিৎসকদের বরখাস্ত হওয়া এবং সর্বশেষ নার্সদের দিনের পর দিন অভুক্ত থাকা বা তাদের পচা খাবার সরবরাহ করার অভিযোগ৷ এসব তো চরম অব্যবস্থাপনা ছাড়া আর কিছু না৷

ঢাকার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে নার্সদের খাবার সংকট থাকার কথা স্বীকার করে নার্সিং ইন্সটিটিউটের উপপরিচালক শাহানারা খাতুন বলেছেন, বাজেট না থাকায় খাবারের এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন৷

অথচ দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্তের আগেই গত ফেব্রুয়ারিতে এ রোগের চিকিৎসার জন্য কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়৷ সরকার শুরু থেকে বলছে সব প্রস্তুতি আছে৷ অথচ বাজেট সংকটে সেই ‘প্রস্তুত’ হাসপাতালের নার্সরা এখন খাবার পাচ্ছেন না!
হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ‍উপকরণের অভাব এবং ডাক্তারদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ কেবল এক-দুটি হাসপাতাল থেকে নয়, বরং দেশের প্রতিটি হাসপাতালেই এমন অবস্থা। অবশ্য দেশের শাসকরা বলছে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে! হাসিনা সরকার এমন নানা মিথ্যাচার চালিয়ে গেলেও বাস্তবতা স্পষ্ট হচ্ছে করোনাভাইরাস সনাক্তের পরিসংখ্যানে।
১৭ই এপ্রিলের সংবাদে বলা হয়, ১৭ই এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেবল ডাক্তারদের সংখ্যাই ৯০জন, আর নার্স আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৫৪জন।
আবার আইইডিসিআর এর তথ্য মতে, গত ১৬ই এপ্রিল নরসিংদী জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন ১৮জন। এর মধ্যে কেবল ১জন ব্যতীত বাকি ১৭জনই হাসপাতালের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী!
এসকল পরিসংখ্যান থেকেই বুঝা যায়, হাসপাতালগুলোতে সরকারের কেমন প্রস্তুতি ছিল বা আছে! দেশ যখন এমন মহাসংকটে, তখনও নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে হাসিনা সরকার। নিজেদের অপকর্ম নিয়ে বিন্দুমাত্র অনুশোচনাবোধ তাদের মাঝে দেখা যাচ্ছে না, বরং লোকদেখানো নানা অপকর্ম করে মানুষকে প্রতারিত করে যাচ্ছে তারা।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন