চার বছর ধরে চাল উঠানো হলেও জানেন না কার্ডধারীরা

0
519
চার বছর ধরে চাল উঠানো হলেও জানেন না কার্ডধারীরা

নাটোর সদর উপজেলার হালসা ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা সফরুদ্দিন । তিনি পেশায় একজন ক্ষুদ্র চাষী। গত চার বছর ধরে তার নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ওএমএসের বরাদ্দকৃত চাল উঠছে। অথচ তিনিই জানেন না তার নামে কার্ড আছে।

হঠাৎ করে তিনি খবর পেয়ে ডিলারের ঘরে হাজির হয়ে দেখেন সাড়ে চার বছর ধরে তার নামে চাল উঠানো হয়েছে। পরে তার কাছ থেকে ৩০০ টাকা নিয়ে ৩০ কেজি চাল দেন ডিলার। কিন্তু জোর করে একসাথে কার্ডে ১৫ থেকে ২০টা টিপসই নেন ডিলার।

বিষয়টি অন্যকে জানাতে নিষেধ করেন ডিলার জুলেখা বেগম।

শুধু সফরুদ্দিন নয় সুফিয়া বেগম, সামছুন্নাহার, জহুরা বেগমসহ এলাকার অনেকের অভিযোগ চার বছর ধরে চাল উঠলেও তারা কিছুই জানেন না। সূত্র:বিডি প্রতিদিন

অনুসন্ধানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত চার বছরে ধরে অনেক গরীব ও অসহায় মানুষের নামে এভাবে ফেয়ার প্রাইসের ১০ কেজি চাল উত্তোলন করা হলেও কেউ কিছুই জানেন না। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নাটোরের হালসা ইউনিয়ন পরিষদের ৯টি ওয়ার্ডে চাল বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

চার বছর ধরে চলছে এই অনিয়ম।

এতোদিন অনেক উপকারভোগীরা জানতেনই না তাদের নামে কার্ড হয়েছিলো। সম্প্রতি উপকারভোগীদের কার্ড যাচাই বাছাই করতে গেলে অনিয়মের বিষয়টি টের পান স্থানীয়রা। জেলা খাদ্য অফিস থেকে পাওয়া তালিকা ঘেটে এমন সতত্য মিলেছে।

এরপর থেকেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন অভিযুক্ত এক ডিলার। আর মামলা হবার পর গা ঢাকা দিয়েছে অপর একডিলার।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে হালসা ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন পাঁচটি ওয়ার্ডে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ডিলার হিসাবে মনোনিত হন ২নং ওয়ার্ড মেম্বার ওহাব আলীর স্ত্রী জুলেখা বেগম। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৭৫৪ জন উপকারভোগীদের মাঝে বছরে পাঁচবার জনপ্রতি ১০টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল দেবার কথা।

অপর চারটি ওয়ার্ডে একই কর্মসূচির আওতায় ৭৫৩ জন উপকারভোগীর মাঝে চাল বিতরণের দায়িত্ব পান ডিলার ইয়াকুব আলী।

কিন্তু দীর্ঘ চার বছরেও অনেক উপকারভোগীই জানতেন না তাদের নামে কার্ড হয়েছে। কার্ড নিজেদের কাছেই রেখে চাল তুলে আত্মসাৎ করেন ডিলাররা। বিষয়টি গোপন থাকায় এতোদিন কেউ টের পাননি।

 

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন