গোঁজামিলের বিদ্যুৎ বিলে জনগণের দুর্ভোগ

0
675
গোঁজামিলের বিদ্যুৎ বিলে জনগণের দুর্ভোগ

করোনা দুর্যোগে দেশে বিল নিয়ে বিড়ম্বনা ও বিভ্রান্তিতে পড়েছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। অনেকের অভিযোগ- তাদের বিল অন্য সময়ের চেয়ে বেশি এসেছে। অনেকে বলছেন- ভুতুড়ে বা অস্বাভাবিক বিলের কথা। অনেকে ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিল ব্যাংকে জমা দিতে চাইলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ‘মে মাসের বিল একসঙ্গে দেওয়ার পরামর্শ’ দিয়ে গ্রাহককে ফিরিয়ে দিয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ- মে মাসের বিলের সঙ্গে নোটিশ এসেছে বিল না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

একই সঙ্গে গ্রাহকরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিলে টাকার যে হিসাব থাকে, সেখানে মোট বিলে টাকার গরমিল রয়েছে। গ্রাহকরা জানতে চাইলেও সঠিক উত্তর দিতে পারছেন না বিদ্যুৎসংশ্লিষ্ট লোকজন। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে ব্যবহারের অতিরিক্ত বিল নেওয়া হবে না। বিল নিয়ে কেউ আপত্তি জানালে জোনাল অফিসের মাধ্যমে মিটার রিডিং যাচাই করে তা সমন্বয় করে দেওয়া হবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে- মানুষ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিপাকে।

করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এড়াতে লাইন ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধকে নিরুৎসাহিত করে বিদ্যুৎ বিভাগ ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিলে বিলম্ব মাসুল মওকুফ করলেও ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়াসহ সব বিল পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। অন্যথায় জরিমানা, সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে আশঙ্কায় বিপাকে পড়েছেন গ্রাহক।

অভিযোগ রয়েছে, বিগত মাসে বিল পরিশোধ করেছেন এমন গ্রাহক পরবর্তী মাসের বিলে পুনরায় বকেয়া বিল সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। অনেকের অভিযোগ গত দুই মাস তাদের মিটার বন্ধ ছিলো, ভাড়াটে বাসা ছেড়ে চলে গেছে; অথচ সেখানে মিটার খোলার পর ইউনিট দেখাচ্ছে। অনেকের আগের মাসের তুলনায় বহুগুণ বেশি বিল এসেছে।

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) আওতাধীন কাফরুল এলাকার গ্রাহক নাজমা বেগম। তার নামের মিটার ব্যবহারকারী ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আহমেদ জানান, মে মাসে তার ৪ হাজার ৫৩৮ টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। অথচ এপ্রিল মাসে এসেছে ৭৬৭ টাকা ও মার্চে ৫৯৫ টাকা। বিগত কয়েক মাসের বিল পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে তার বিল এসেছে ৪১১; জানুয়ারিতে ৩৩৫; গত বছর ডিসেম্বরে ৫৩৭; নভেম্বরে ৯২৭ এবং অক্টোবরে এক হাজার ৪৯৩ টাকা। এ বছর মে মাসে তার যে বিলটি এসেছে, সেখানে কোনো বকেয়া বিল সংযুক্ত হয়নি। কারণ তিনি এপ্রিল ও মার্চের বিল অনলাইনে পরিশোধ করেছেন। মে মাসের বিলে এপ্রিল বিল পরিশোধিত দেখানো হয়েছে। ইয়াসিন আহমেদের প্রশ্ন- মে মাসে হঠাৎ করে তার এত বেশি বিল কীভাবে হলো?

মাতুয়াইল নিবাসী ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) গ্রাহক কামাল হোসেনেরও অভিযোগ অন্য সময়ের চেয়ে তার বিল বেশি এসেছে। নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুরের আদিবাসী সুমন ভূঁইয়া তার বিল ২৪৭৪ টাকা আসছে। বিলের কাগজে যেভাবে হিসাব লেখা আছে, তাতে তার হিসাব মিলছে না। তিনি বলেন, আমি বিদ্যুৎকর্মী ও মিটার রিডারের কাছে জানতে চাইলে তারা বোঝাতে পারেননি। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মেরাদিয়া এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তিনি মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিল পরিশোধ করে দিয়েছেন। তার পরও তার বিল আসছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। পরে তিনি অফিসে তার বিল ছয় হাজার ২৬৩ টাকা করে দেয় হাতে কেটে। কিন্তু বাকি টাকা কীসের ভিত্তিতে করেছে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। গোদনাইলের এনায়েত নগরের বাসিন্দা সোহেল জানান, তার সব সময় বিল আসে ৬-৭ হাজার টাকা। তাকে গত মাসের বিল করে দেওয়া হয়েছে ৩৩ হাজার টাকা। নয়া পল্টনের এক গ্রাহকের অভিযোগ তিনি মার্চ, এপ্রিলের বিল ব্যাংকে দিতে পারেননি। তাকে বলা হয়েছে মে মাসের বিলসহ একসঙ্গে পরিশোধ করতে।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার বাসিন্দা শেখ মোশারফ হোসেন জানান, এপ্রিলে তার বিল অনেক বেশি এসেছে। প্রিন্ট করা বিলে কাটাকাটি করে হাতে টাকার অঙ্ক লেখা হয়েছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের অফিসে যোগাযোগ করলেও তার কথা কেউ শোনেননি, তার বিল যাচাই করেও দেখেননি। তাকে বলা হয়েছে বিল দেখা লাগবে না। বিল ঠিকই আছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অধীনে অনেক সমিতির গ্রাহকেরই করোনাকালীন বিদ্যুৎ বিল নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। বেশি বিল, ভুতুড়ে বিল বা অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) গ্রাহকদেরও রয়েছে। আমাদের সময়

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, করোনার বিস্তার রোধে অনেক গ্রাহকের আঙিনায় সরেজমিন গিয়ে মিটার রিডিং নিয়ে বিদ্যুৎ বিল তৈরি করা হয়নি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বাধ্যবাধকতার ফলে গ্রাহক ও বিদ্যুৎকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আগের মাসের অথবা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের বিলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাক্কলিত বিল দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন