খোরাসান | রাজধানীতে তালেবানের শহিদী হামলা, ৭০ এরও অধিক সৈন্য নিহত

1
896
খোরাসান | রাজধানীতে তালেবানের শহিদী হামলা, ৭০ এরও অধিক সৈন্য নিহত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত মুরতাদ কাবুল সরকারের ন্যাশনাল আর্মির (এএনএ) ঘাঁটিতে একটি বীরত্বপূর্ণ শহিদী হামলা চালিয়েছেন একজন তালেবান মুজাহিদ। এতে ৭০ এরও অধিক মুরতাদ সৈন্য নিহত এবং আরো কয়েক ডজন সৈন্য আহত হয়েছে।

ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের অফিসিয়াল ‘আল-ইমারাহ্’ কর্তৃক প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার স্থানীয় ভোর সাড়ে ছয়টায় আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলীয় পাগমান জেলায় অবস্থিত মুরতাদ কাবুল সরকারের সেনা ঘাঁটি ও পুলিশ হেডকোয়াটার লক্ষ্য করে একটি বীরত্বপূর্ণ শহিদী হামলা চালানো হয়েছে।

তালেবানদের শহিদ ব্যাটেলিয়নের কমান্ডো মুজাহিদ শহিদ হাফেজ হেদায়াতুল্লাহ আহমাদী (রহ.) শক্তিশালী মোটরবোম নিয়ে সাহসিকতার সাথে কাবুল বাহিনীর সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশ করেন, এবং বীরত্বের সাথে সফল শহিদী হামলা পরিচালনা করেন। যার ফলে সামরিক ঘাঁটিটি পরিপূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েগেছে। এছাড়াও পাশে থাকা পুলিশ হেডকোয়াটারেরও অনেক অংশ ধ্বংস হয়েছে। এই বীরত্বপূর্ণ শহিদী হামলায় সামরিক ঘাঁটির সেনা প্রধানসহ ৭০ এরও অধিক মুরতাদ সৈন্য নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে আরো কয়েক ডজন মুরতাদ সৈন্য।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, যার ফলে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের ভবনগুলোও কেঁপে উঠেছিল। টোল নিউজের এক প্রতিবেদক জানিয়েছে যে, বিস্ফোরণের ফলে পুরো ‘এএনএ’ সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়েগেছে এবং ভিতরে থাকা কাবুল বাহিনীর সকল যানবাহন ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েগেছে। বিস্ফোরণের ফলে অনেক সাঁজোয়া যান মাটির নিছেও চাঁপা পড়েছে

তালেবান এই হামলার দায় স্বীকার করার আগে ‘আরিয়ানা নিউজ’ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেছে যে, আক্রমণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, কেউ কেউ একে বিমান হামলাও বলে অভিহিত করেছেন। ওই অঞ্চলের কাবুল সরকারের আর্মি কমান্ডারও গণমাধ্যমকে বলেছিল যে, আজকের আক্রমণটি কার বোমা হামলা ছিল নাকি তালেবানদের ড্রোন হামলা ছিল তা বুঝা কঠিন হয়ে পড়েছে, এ বিষয়ে এখনো গবেষণা চলছে। এদিকে কাবুল সরকার স্বীকার করেছে যে, এই হামলায় তাদের ৪০ সৈন্য নিহত হয়েছে এবং আরও অনেক সৈন্য আহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অ্যাম্বুলেন্সগুলি প্রায় ৫ ঘন্টা যাবৎ ঘটনাস্থল থেকে নিহত ও আহত মুরতাদ সৈন্যদের কাবুলে নিয়ে যাচ্ছিল। যা প্রমাণ করেছে এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০০ কেও ছাড়িয়ে যাবে।

তালেবান মুজাহিদিন এই হামলা এমন এক সময় চালিয়েছে, যখন কাবুল বাহিনী চুক্তির সকল ধারা ভঙ্গকরে নিরপরাধ মানুষকে শহিদ, মসজিদ- মাদ্রাসা ধ্বংস এবং শহিদদের লাশের অপমানজনক ভিডিও প্রকাশ করেছে। তালেবান এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, মুরতাদ কাবুল বাহিনীর এমন যুদ্ধাপরাধ ও শহিদদের লাশ বিকৃত করার পর সেগুলোর অপমানজনক ভিডিও প্রকাশ করার প্রতিশোধ নিতেই এই হামলাটি চালানো হয়েছে।

IMG-20201114-011014-412

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন