ভারত | মুসলিম বিদ্বেষের জেরে হরিয়ানায় আসিফকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা

1
713
ভারত | মুসলিম বিদ্বেষের জেরে হরিয়ানায় আসিফকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা

ভারত যখন প্রতিদিনই করোনার নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে, মৃতের লাশ সৎকারের অভাবে কুকুর যখন টেনে টেনে খাচ্ছে; ঠিক তখনো হিন্দুত্ববাদী ভারতে ইসলাম বিদ্বেষ আর নির্যাতনের মাধ্যমে মুসলিম হত্যা থেমে নেই।

গত ১৬ মে রবিবার, ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মেওয়াত অঞ্চলের একটি গ্রামে হিন্দুত্ববাদী গুজর সম্প্রদায়ের একদল গুন্ডাদের নির্যাতনে ২৮ বছর বয়সী আসিফ খান নামে এক মুসলিম মারা গেছেন। নিহতের পরিবারের লোকেরা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন।

নিহতের পরিবার জানায়, খলিলপুর গ্রামের জিম প্রশিক্ষক আসিফ খানকে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা অপহরণের পর নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। মৃত্যুর পূর্বে আসিফ তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে রেখে যান।

আসিফের শ্যালক মোহাম্মদ ইশা বলেন, আসিফ তাঁর দুই চাচাতো ভাই রাশিদ (৩১) ও ওয়াসিফকে (২২) নিয়ে সোহানার একজন স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে দেখা করার পর যখন স্যান্ট্রো গাড়িতে করে ফিরে আসছিলেন, তখন কমপক্ষে ২০ জনের মালাউন সন্ত্রাসীদের একটি দল দুইটি গাড়িতে চড়ে তাদের ধাওয়া করে।

“তারা আমাদের গাড়িকে পেছন থেকে ধাক্কা মারে এবং অন্য গাড়িটি আমাদের গাড়িকে অনুসরণ করে।”- রশিদের ধারণকৃত ভিডিওতে ঘটনাটি রেকর্ড হয়। “উগ্রবাদীরা আচমকাই তাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয়ার ফলে আসিফ গুরুতরভাবে মুখে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তারা আমাদের উপর হামলা করে, আমাকে অজ্ঞান হওয়া পর্যন্ত বেদম পেটাতে থাকে। তারপর হিন্দুত্ববাদীরা আসিফকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগলি গ্রামে তুলে নিয়ে যায়।”

মোহাম্মদ ইশা জানান,”উগ্রবাদীরা আসিফকে বন্দী করে তার উপর নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়েছে। তারা আসিফের পা ও পায়ের পাতায় বেদম প্রহার করে, হাতুড়ি দিয়ে বুকে ও মাথায় সজোরে আঘাত করে।”

নিহত আসিফের ভাই মহসিম বলেন, “আমাদের একমাত্র দাবি হলো আমরা ন্যায়বিচার চাই। অন্য কিছু নয়। আমরা আমাদের ভাইকে হারিয়েছি কিন্তু পুলিশ বিনা কারণে উল্টো আমাদের উপর চড়াও হয়েছে।যারা আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই।”

মহসিম আরো বলেন,”আসিফ হত্যার মূল হোতা ও প্রধান ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি পুলিশকে তাদের গ্রেফতারের দাবী জানান।”

ইশা বলেন,”আসিফের জিম পরিচালনা ও তাদের আধিপত্যকে মেনে না নেয়া গুজ্জর সম্প্রদায়ের লোকেরা পছন্দ করেনি। তারা তাকে নিয়ে হিংসা করতো। অন্য ধর্মের লোকের অধিক প্রভাব-প্রতিপত্তি গুজ্জর সম্প্রদায়ের লোকেরা মেনে নেয়নি। ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের বৈষম্য মূলক আচরণ আসিফ পছন্দ করতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন গ্রামের সবাই সমান। তিনি প্রায়শই তাদের বলতেন, তারা কেন অন্য সম্প্রদায়ের লোকদের হয়রানি করে? একজন মুসলিম হিসেবে আসিফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তারা মেনে নিতে পারেনি। ফলশ্রুতিতে তারা তাকে তার পরিণতি ভোগের হুমকি দিয়েছিল।”

মোহাম্মদ ইশা আসিফের সততা ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে বলেন,”আপনি এলাকার যে কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, তিনি কতটা ভালো মানুষ ছিলেন।
যে লোকেরা তাকে খুন করেছে তারা এলাকায় গুন্ডা হিসাবে পরিচিত। তাদের নামে থানায় মামলাও রয়েছে।”

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন