হিন্দুত্ববাদী পুলিশি হয়রানির ভয়ে মুসলিম পুরুষ শূন্য ভারতের জাহাঙ্গীরপুরী

2
651

রাজধানী দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরী এলাকায় হিন্দুত্ববাদীরা মুসলিমদের উপর সহিংসতা চালিয়েছিল। হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে একটি হিন্দুত্ববাদী মিছিল ঐ এলাকার একটি মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সহিংসতা চালায়।

পরে উল্টো সহিংসতার জন্য মুসলিমদেরকে দায়ী করে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। শুধুমাত্র মুসলিমদের ঘরবাড়ি, মসজিদ টার্গেট করা হয়েছে। ভাঙচুরের পর রাজধানী দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরী এলাকা এখনও উত্তপ্ত। ঐ এলাকায় বুধবার থেকে শুরু হয় “অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ” অভিযানের নামে হিন্দুত্ববাদীদের মুসলিম স্থাপনা, বাড়িঘর, দোকানপাট, মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার ধ্বংসলীলা।

ভারতের জাহাঙ্গীরপুরীর বেশ কয়েকজন মুসলিম বাসিন্দা জানান, সহিংসতা হওয়ার পর থেকেই প্রতিনিয়ত তাদের পুলিশি হয়রানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

যে এলাকায় ভাঙচুর হয়েছে, সি ব্লকের স্থানীয়রা বলছেন যে মুসলিম যুবকদের প্রায়ই পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তাদের একটাই অপরাধ তারা মুসলিম।

সে এলাকার পুরুষরা প্রাথমিকভাবে পুলিশের পদক্ষেপের ভয়ে বাইরে চলে যাওয়ায়, মহিলারা অভিযোগ করেছেন যে তারাও পুলিশ দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, নাবালকদেরও তুলে নেওয়া হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরপুরীর স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা বানো বলেছেন, যে তার ভাইকে ২০শে মে আটক করা হয়। “তিনি দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এমন সময় জাহাঙ্গীরপুরী থানার কিছু পুলিশ আধিকারিক তাকে তুলে নিয়ে যায়। এবং কোন কারণ ছাড়াই তাকে কারাগারে নিয়ে যায়।
কিন্তু পরে ২৪শে মে রোহিণী আদালতের জারি করা আদেশে, হিন্দুদের হনুমান জয়ন্তী সহিংসতা সংক্রান্ত একটি মামলায় বানোর ভাইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়।

বানো বলেছেন যে তিনি ক্রমাগত ভয়ের মধ্যে থাকেন এবং এমনকি তার মেয়েকেও পুলিশ হুমকি দেয়  বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেছেন “আমার স্বামী এবং ছেলেরা হিন্দুত্ববাদীদের অন্যায় কারাদণ্ড এড়াতে অনেক আগেই শহর ছেড়েছে। যদিও হনুমান জয়ন্তীর সহিংসতার সময়ও তারা এখানে ছিল না। কিন্তু তবুও পুলিশ আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে, তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। আমাদেরকে তাদের ‘আত্মসমর্পণ’ করতে বলেছে। তারা আমার অল্পবয়সী মেয়েকে হুমকি দিয়েছে এবং বলেছে যে, যদি আমরা তাদের কাছে আমার ছেলেদের অবস্থান না জানাই তবে তাকে ‘উঠিয়ে নেওয়া’ হবে।
“আমরা সবাই জানি যে তারা মুসলিম পুরুষদের তুলে নিয়ে মিথ্যে মামলায় তাদের ফাঁসিয়ে দিচ্ছে।

আখলাক জাহাঙ্গীরপুরীতে বসবাসকারী একজন র‌্যাগপিকার। সহিংসতার পর থেকে তার পরিবারের তিন সদস্যকে সি ব্লক এলাকা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
আখলাক বলেছেন, “পুরুষদের প্রায় প্রতিদিনই তোলা নেওয়া হয়। এতে মুসলিমদের মাঝে বিশৃঙ্খল ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রায় সবাই নির্দোষ। আমার সবচেয়ে খারাপ ভয় হল এই ছোট বাচ্চাদের, সবেমাত্র তাদের কিশোর বয়সে, তাদের হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে এবং মারধর করা হচ্ছে।কারাগারে তাদের উপর অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।

“আমরা কখনই সম্পূর্ণ মুক্ত নই, আমাদের ক্রমাগত নজরদারি করা হয় – আমরা কী খাচ্ছি এবং আমরা কোথায় টয়লেটে যাচ্ছি, তারা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে। আমরা নিজেদের ঘরেই বন্দী হয়ে পড়েছি।

স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা ইফরান বলেছেন, “ভয় আমাদের জেলে যাওয়ার নয়, আমরা জানি আমরা কিছুই করিনি। ভয় হল হেফাজতে সহিংসতা এবং হয়রানির সম্মুখীন হওয়ার।

“আমার কাছে সিসিটিভি ফুটেজ আছে যেখানে আমাকে লড়াই ভাঙতে দেখা যায়। তবুও একজন পুলিশ আসে এবং আমাকে মারধর করে এবং জেলে নিয়ে যায়,” তিনি বলেছেন, আরও দুইজন মুসলিম পুরুষকেও মারধর করে। “আমার সামনে, অন্তত ছয়জন হিন্দু পুরুষ ছিল যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কিন্তু পুলিশ তাদের কিছুই বলেনি। কিন্তু তারা আমাদের এত মারধর করেছে যে আমি এখনও কাজে যেতে পারছি না।

তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে পুলিশ তার কাছ থেকে ৫0,000 টাকা দাবি করেছে এবং যদি সে টাকা না দেয় তবে তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ)মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
“তারা জোর করে আমাকে বন্দুক দিয়েছিল এবং আমার ছবি তুলেছিল, বলেছে যে বন্দুকগুলি আমার। তারা আমাকে ভয় দেখিয়ে মারধর করে। আমি কি সন্ত্রাসী?” সে অন্যান্যদের কাছে প্রশ্ন করে।

কিছু বাসিনদারা জানিয়েছেন, মুসলিমরা ভয়ে তাদের গ্রামে চলে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা ফিরে আসতে পারে।


তথ্যসূত্র:
——
1. Muslim Men Leaving Jahangirpuri Out of Fear of Police Harassment, Say Locals
https://tinyurl.com/z3278ena

2 মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন