বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর ঋণের ফাঁদে বাংলাদেশ

    ইউসুফ আল-হাসান

    0
    1399

    বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয় সংস্থা দুটি ভালো কাজই করছে। তারা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে সাহায্য করার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ দিচ্ছে। তবে এর আড়ালে মূলত দরিদ্র দেশগুলিকে পশ্চিমাদের আরোপিত কঠোর শর্ত মেনে নিতে ব্ল্যাকমেইল করে থাকে তারা। অন্য কথায়, বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পৃথিবীর সবচেয়ে নৃশংস মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ি।

    বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের স্লোগান হলো, ‘আমাদের স্বপ্ন দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব’। কিন্তু এই স্লোগান শুধুমাত্র সাহায্যকারী সেজে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। দুটি প্রতিষ্ঠানই জাতিসংঘের তত্বাবধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সৃষ্টি হয়। এ দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাজই হচ্ছে মিথ্যা ও কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বিশ্ববাসীকে শোষণ করা এবং সোনা-রুপার বিপরীতে ডলারের আধিপত্ব বজায় রাখা।

    তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মুখভাগ বেশ চকচকে। তারা বিশ্ববাসীকে যা বুঝায় তা হল- তাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলিতে বিনিয়োগ করে; যেমন- বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে দারিদ্রমুক্ত করতে চায় তারা। কিন্তু তাদের এ স্লোগানের অপর পিঠ গত কয়েক দশকে প্রকাশিত হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে মানুষ বুঝতে শুরু করেছে তাদের শোষণ, জবরদস্তি এবং সরাসরি ব্ল্যাকমেইলের মতো নির্মম বাস্তবতা।

    অর্থনীতিতে চরম সঙ্কটের মুখে আবারো আইএমএফের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের) শরণাপন্ন হয়েছে বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজ সরকার। বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে বহুজাতিক ঋণ সংস্থাটির কাছ থেকে আগামী তিন বছরে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ।

    আর বাংলাদেশকে ঋণ দিতে আইএমএফের কোন বাধা নেই। তবে আইএমএফ ঋণ পাওয়ার জন্য রাষ্ট্রকে মানতে হবে অসংখ্য শর্ত। ঋণচুক্তির আগে সেই শর্ত পূরণ করে আইএমএফের আনুগত্য প্রমাণ করতে হয় রাষ্ট্রকে। আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পেতে হলে যে কোনো দেশকেই বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।

    বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঠিক কী কী শর্ত আরোপ করেছে আইএফএম তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব খাত সংকোচন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বিক্রি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেয়া, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি তুলে দেয়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয় কমানো, দেশের বাজার খুলে দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ ও পণ্যের বাজার সুগম করে দেয়া- এগুলোই হলো আইএমএফের সাধারণ শর্ত।

    বর্তমানে শিক্ষা খ্যাতে ব্যাপক ইসলাম বিরোধী পদক্ষেপ আইএফএম-এর শর্তের ভিত্তিতেই গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করা হয়। কেননা দেশে এতো বেশি দুর্নীতি ও অর্থ পাচার হয়েছে যে, দেশ শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থা না হলেও কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। তাই যে কোন শর্তেই হোক আইএমএফ-এর থেকে ঋণ গ্রহণ খুব জরুরী হয়ে পড়েছে গাদ্দার সরকারের জন্যে। আর সরকারের বর্তমান অবস্থা থেকে এটি অনুমেয় যে সরকার আইএমএফ-এর দেয়া সকল শর্তই পূরণ করছে। আর এর পর পরই গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সুবিধা অনুমোদন করে সংস্থাটি।

    এবারই প্রথম ঋণ নিচ্ছে না বাংলাদেশ, এর আগেও দুর্নীতিবাজ শাসকগোষ্ঠী বেশ কয়েকবার আইএমএফ থেকে ঋণ নিয়েছে। গত চার দশকে ধাপে ধাপে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের এসব শর্তই পুরোপুরি পূরণ করেছে শাসকগোষ্ঠী। তবে ঋণদাতা সংস্থাগুলো শুধু শর্ত বা পরামর্শ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারাই তৈরি করে দিয়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতি, পরিকল্পনা ও কৌশলের দলিল। বিগত নাস্তিক্যবাদী সরকারগুলো বিনা বাক্যব্যয়ে তাদের সব নির্দেশনা মেনে নিয়েছে। বর্তমান গাদ্দার সরকারও সব শর্ত মেনে নিয়ে কাজ করছে।



    তথ্যসূত্র:
    ——–
    1. ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী
    https://tinyurl.com/yaz7ss4j
    2. Secret agenda of World Bank, IMF
    https://tinyurl.com/6uhfm5kr
    3. The IMF’s hidden agenda
    https://tinyurl.com/6uhfm5kr

    মন্তব্য করুন

    দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
    দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

    পূর্ববর্তী নিবন্ধইউপিতে গোহত্যার অভিযোগে মুসলিম খুন: ন্যায়বিচার পেতে পরিবারগুলোর অপেক্ষা
    পরবর্তী নিবন্ধজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতির চীন সফর, কথা বলেনি উইঘুরদের নিয়ে