ভারতের দিল্লিতে পুলিশ কাস্টোডিতে এক মুসলিম ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার জোরালো অভিযোগ

0
3

ভারতে উত্তর-পশ্চিম দিল্লির জাহাঙ্গীর-পুরী পুলিশ স্টেশনে কাস্টোডিতে ৩৪ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি হেফাজতের নামে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তারা হত্যায় জড়িত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

নিহত মুসলিম ব্যক্তির নাম অনিশ, তিনি স্থানীয় একটি সবজি মণ্ডিতে কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যরা জানায়, ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টা নাগাদ কাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন অনিশ। টহল দেওয়ার সময় পুলিশ তাকে থামায়। স্বজনদের অভিযোগ, তাকে ভোররাতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে লাঞ্ছিত করা হয়। ভোররাত থেকে সকাল ৯টা বা ১০টা পর্যন্ত তাকে মারধর করা হয়। এরপরই সে মারা যায়।

নিহত অনিশের মা ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন, তার ছেলে সুস্থ অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। অনিশের এক বন্ধুও বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরপুরী থানার বাইরে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাত করেছে, তবে পুলিশের প্রতিক্রিয়া সন্তোষজনক নয়।

অপরদিকে কাস্টোডিতে সহিংসতা ও হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। কর্মকর্তারা জানায়, থানায় আনার পর অনিশ অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করে এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সে মারা যায়।

পুলিশের এই দাবিকে বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নিহতের স্বজনেরা। ভুক্তভোগীকে আটক করা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। কেন তাকে থামানো হলো? থানার ভেতরে কী ঘটেছিল? এই সকল প্রশ্নের কোনও যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য উত্তর প্রদান করতে সক্ষম হয় নি হিন্দুত্ববাদী পুলিশ।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/2w23tjjy

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধদক্ষিণ সোমালিয়ায় আশ-শাবাবের হামলা অব্যাহত: মোগাদিশু বাহিনীতে ব্যাপক হতাহত
পরবর্তী নিবন্ধআফগানিস্তানে ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিদেশি পর্যটকের ইসলাম গ্রহণ