‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’ অমিত শাহের উদ্দেশ্যে মমতা

0
131

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা হারানোর মাসখানেক পর কলকাতার ধর্মতলায় অবস্থান কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলো পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার (২ জুন) তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দিয়ে জানান, এই খুনের সঙ্গে জড়িত মূল আততায়ীরা মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করেছিল।

কিন্তু সেই খবর যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তার জন্য খোদ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে বিষয়টি চেপে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। মমতা জানায়, দেশের স্বার্থের দোহাই দিয়ে অমিত শাহ তাকে বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে নির্দেশ দিতে যাতে এই খবর কোনোভাবেই বাইরে না যায়।

অবস্থান ধর্মঘটে মমতা জানান, ‘বাংলাদেশের এক বড় খুনিকে এসটিএফ (স্পেশাল টাস্কফোর্স) গ্রেপ্তার করেছিল, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার বলার অধিকার নেই। কিন্তু আমি যেটা বলছি, তারপরে তারা (খুনি) মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। তখন আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এটা এসটিএফের ক্রেডিট। তারপরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে নিজে ফোন করেন।’

মমতা বলেন, ‘এতদিন তো আমি বলিনি। আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছে বলে বলছি। আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে। আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি।’

এ সময় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা চিৎকার করে বলে ওঠেন ‘নামটা বলে দিন’। তবে মমতা বলেন, ‘না বলব না দেশের স্বার্থে। (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) বললেন, ‘আপ থোড়া আপকো বেঙ্গল পুলিশকে বোল দো, এ বাত বাহার মে নেহি কেহনে কে লিয়ে। (আপনি পশ্চিমবঙ্গের পুলিশকে একটু বলে দেন, এই কথাটা বাইরে যাওয়ার না) এটি দেশের জন্য।’

এরপরই মমতা বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ সরকার পরিবর্তন হলেও আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয় তো একটা কথার ভান্ডার, তথ্য ভান্ডার, সত্য ভান্ডার।’

প্রতিবেশী দেশ তথা বাংলাদেশে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতে পারে— কেবল এই বিবেচনা থেকেই তিনি আপাতত মূল হত্যকারী চক্রের নাম প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকছেন বলে জানিয়েছেন মমতা। তবে তার এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে নিছক একটি রাজনৈতিক খুন থেকে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের পর্যায়ে উন্নীত করেছে।


তথ্যসূত্র:
১। ‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’
– https://tinyurl.com/25rmtwjj

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধসচেতন সমাজের বিপরীতে দাঁড়িয়ে স্কুলে সিনেমা প্রদর্শনীর পক্ষে মানববন্ধন করেছে সাংসদ রুমিনা ফারহানা
পরবর্তী নিবন্ধবিহারে আবারও এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করলো উগ্র হিন্দুরা