
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির ক্ষমতাসীন জান্তা এবং রুশ বাহিনী দেশজুড়ে “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” এর নামে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে।
আয-যাল্লাকা মিডিয়া সহ আঞ্চলিক গণমাধ্যম সূত্রগুলোর নিশ্চিত করেছে যে, মালিতে সেনাবাহিনী এবং রুশ বাহিনী কর্তৃক চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি) ব্যবহার করে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া এবং তুরস্কের দেওয়া কামিকাজি ড্রোনগুলো ব্যবহার করে দেশের উত্তরাঞ্চলের টিম্বুকটু, কিদাল এবং মধ্য মালির মোপ্তি রাজ্যের বিভিন্ন বাজার এবং বেসামরিক যানবাহনকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
এই গণহত্যার অংশ হিসেবে গত ১৬ জুন মঙ্গলবার, উত্তরাঞ্চলের টিম্বুকটু রাজ্যে বেসামরিক নাগরিকদের বহনকারী একটি গাড়িতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। যাতে ৩ শিশু এবং ৭ জন নারী নিহত হয়েছেন। এর আগে গত ১৫ জুন, মধ্য মালির মোপ্তি রাজ্যের হোমবোরি শহরের নিকটবর্তী কিনিয়া এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে আরও একটি হামলা চালানো হয়েছে। মালির সেনাবাহিনীর (জান্তা) সশস্ত্র চালকবিহীন আকাশযান দ্বারা পরিচালিত এই হামলায় ১৯ জন হতাহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
এমনিভাবে গত ১৩ জুন, উত্তর মালির টিম্বুকটু রাজ্যের ইচাল শহরের সাপ্তাহিক হাটে মালির জান্তা বাহিনী এবং রাশিয়ার আফ্রিকান কর্পসের সৈন্যরা আরও একটি গণহত্যা চালায়। এই হামলায় অন্তত ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
“আফ্রিকান ভিশনস”-এর পাওয়া সামঞ্জস্যপূর্ণ বিবরণ অনুযায়ী, জান্তা ও রুশ সৈন্যরা প্রথমে চতুর্দিক থেকে বাজারকে ঘিরে ফেলে। এরপর বাজারের ভেতরে ও আশেপাশে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় অনেক বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আহত হন, নিহতদের মধ্যে শিশুও ছিল, যাদের মধ্যে দশ বছর বয়সী বালকও রয়েছে।
বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন মালিতে জান্তা এবং রুশ বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, মানবাধিকার লঙ্ঘন বাড়িয়ে চলছে।
তথ্যসূত্র:
– https://t.co/uQ8gWop1cP
– https://t.co/28wjNwIKZe
– https://tinyurl.com/yf8f8v2x


