
ভারতের উত্তরপ্রদেশে মিরাট থেকে দেওবন্দগামী একটি ট্রেনে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে একদল মদ্যপ ব্যক্তি মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই সময় তার মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া নিকটবর্তী খাতৌলি স্টেশনে তাকে জোর করে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্রের নাম মুনতাজির। তিনি পড়াশোনার জন্য প্রসিদ্ধ দারুল উলুম দেওবন্দের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। ২৩ আগস্ট সিয়াসাত ডেইলি সংবাদমাধ্যমে ভুক্তভোগীর অভিযোগসমূহ তুলে ধরা হয়।
মুনতাজিরের ভাষ্য অনুযায়ী, মিরাট থেকে ট্রেনে ওঠার পর তিনি নিজের আসনে বসেছিলেন। এ সময় কয়েকজন উগ্র ব্যক্তি ট্রেনে বসে মদ পান করছিল। তারা ছাত্রটিকে মদ্যপানের প্রস্তাব দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং সেখান থেকে অন্য আসনে গিয়ে বসেন।
ভুক্তভোগী আরও জানান, মদ্যপ ব্যক্তিরা বারবার তাকে মদ পান করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এতে বিরক্ত হয়ে তিনি পাশের একটি কোচে চলে যান। কিন্তু কয়েকটি স্টেশন পার হওয়ার পর মদ্যপরা তাকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানে উপস্থিত হয়, তারা ভুক্তভোগীকে গালিগালাজ করতে আরম্ভ করে।
মুনতাজির অভিযোগ করেন, মদ্যপদের অনিষ্টতা থেকে বাঁচতে তিনি আবারও সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এবার দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর শুরু করে। পরে তাকে জোর করে খাতৌলি স্টেশনে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
চলতি বছরের এপ্রিলে উত্তরপ্রদেশের ট্রেনে এক মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইমামের মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ৩০ বছর বয়সী মাওলানা তৌসিফ রাজা মাজহারিকে বেরেলি রেলওয়ে স্টেশনের কাছে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
বিহারের সিওয়ানে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক ও ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন মাওলানা তৌসিফ। একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি বেরেলিতে গিয়েছিলেন।
ঘটনা দুটি ভারতজুড়ে মুসলমান বিশেষত দাড়ি-টুপি ধারণকারীদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ভিডিও: https://archive.org/details/madrasa-student-beaten-up-on-train-in-uttar-pradesh
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/bdhd5sbz


