
ভারতের রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় বারোদা মেও থানার সামনে পাথরের আঘাতে এক মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দাড়ি ও টুপি পরিহিত থাকায় ভুক্তভোগীর মুসলিম পরিচয় স্পষ্ট ছিল, তাই তিনি হামলাকারীর টার্গেটে পরিণত হয়েছিলেন।
অপরদিকে থানার অভ্যন্তরে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি সত্ত্বেও তারা হামলার সময় তাৎক্ষণিক কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
হত্যার শিকার ব্যক্তির নাম সাইকুন খান (৪১)। তিনি নাসির খানের ছেলে এবং পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা তারিকের অভিযোগ, ঘটনার আগে সকাল বেলা হত্যাকারী হর্ষ খাটি থানায় আটক ছিল। হর্ষ আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছিল যে, সে একটি খুন করবে। কিন্তু এরপরেও পুলিশ সদস্যরা তাকে ছেড়ে দেয়।
তারিক বলেন, ভুক্তভোগী সাইকুন খান ওই সময় থানার নিকটবর্তী রাস্তায় মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিল। হর্ষ সাইকুনকে দেখতে পেয়ে পাথর দ্বারা তার ওপর হামলা চালায়। পাথরের আঘাতে সাইকুন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। তার পা মোটরসাইকেলের নিচে আটকে যায়। এরপর হামলাকারী একটি ধারালো পাথর নিয়ে সাইকুনের মাথায় বারবার আঘাত করতে থাকে।
ওই সময় ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি অভিযুক্তকে আটক করেন। তারা আহত সাইকুনকে হাসপাতালে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সাইকুনের মৃত্যু হয়।
সাইকুনের ছোট ভাই ইরশাদ খান বলেন, “আমরা জানি না কেন আমার ভাইকে হত্যা করা হলো। কারও সঙ্গে তার কোনও শত্রুতা ছিল না। তার একমাত্র অপরাধ ছিল তিনি দাড়ি রাখতেন এবং টুপি পরতেন।”
তারিক আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তকে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমাণের অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু হত্যাকারী হর্ষ খাটি স্বাভাবিক আচরণের একজন ব্যক্তি ছিল।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এ ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারিকের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি থানায় আটক থাকাকালেই খুন করবে বলে হুমকি দিয়েছিল। এরপরও তাকে কেন ছেড়ে দেওয়া হলো? এছাড়া হামলাকালে থানার ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাটি দেখেছিল, কিন্তু তারা বাইরে এসে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে হস্তক্ষেপ করে নি। একটি থানার বাইরে দিনে-দুপুরে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা।
হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াসহ সাইকুনের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/4az3vst4


