
ভারতে উত্তর প্রদেশের লখনৌয়ে বাদি কালী মন্দির চৌক এলাকায় হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা এক মুসলিম কিশোর ও তার চাচার উপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর দ্যা অবজারভার পোস্টে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই এলাকায় তারাই একমাত্র মুসলিম পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে তারা হিন্দু প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছেন।
হামলার শিকার আবদুল্লাহ (১২) জানায়, হিন্দুদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন উগ্রপন্থী যুবক তাকে সিগারেট আনতে বলেছিল। সে রাজি না হলে তাকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে তারা জোরাজুরি আরম্ভ করে। কিন্তু এতেও অস্বীকৃতি জানায় আবদুল্লাহ। এক পর্যায়ে উগ্রপন্থীদের একজন তাকে চড় মারে। আবদুল্লাহ’র অভিযোগ, এরপর সেখানে আরও লোকজন জড়ো হয়, একপর্যায়ে তার মাথায় লোহার বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে সে আহত হয়।
ছেলেটি আরও অভিযোগ করেছে, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন উগ্র হিন্দুত্ববাদী তাকে অনুসরণ করে, তারা তার বাড়ি পর্যন্ত চলে আসে। এরপর বাড়ি ও পার্শ্ববর্তী মসজিদকে লক্ষ্য করে উগ্রবাদীরা পাথর ছুড়তে শুরু করে।
আবদুল্লাহর বাবা মোহাম্মদ ইরফান জানান, পাথর ছোড়া অব্যাহত থাকায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। পরে তারা ছাদে উঠে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। একটু পর হিন্দুত্ববাদী জনতা সেখান থেকে চলে যায়। আবদুল্লাহর চাচা মোহাম্মদ সুফিয়ানও (৩৩) উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাড়ি ফেরার পথে একদল হিন্দু দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ধরে মারধর করেছে।
সুফিয়ান বলেন, হামলায় তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে মাথায় আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। হামলার ফলে তার টি-শার্ট রক্তে ভিজে গিয়েছিল।
মসজিদ নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের বিরোধ
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, কয়েকজন বহিরাগত দাবি করছে, তাদের বাড়ির কাছে থাকা মসজিদটি মন্দিরের জমির ওপর নির্মিত হয়েছে। অথচ মসজিদটি ১৯২০ সালে নির্মিত, দীর্ঘসময় ধরে তাদের পরিবারই মসজিদটি পরিচালনা করে আসছেন। হিন্দুত্ববাদীদের দাবির বিরোধিতা করার পর থেকে পরিবারটিকে ক্রমাগতভাবে উচ্ছেদ ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় আশিস, বিকাশ, অংশু, মোহিত, আনন্দ, উমং এবং আরও ২০০ থেকে ৩০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় হিন্দুর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/3tc9emn2


