“সেদিন থেকে আমাদের হাতে থাকা তোমাদের বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্তও কার্যকর হবে”: আমেরিকার প্রতি আল-কায়েদার সতর্কবার্তা

0
1

ভিন্ন সময়ে পরিচালিত দুটি সাহসী অভিযানকে একসূত্রে গেঁথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন করে হুমকি দিয়েছে সশস্ত্র ইসলামি প্রতিরোধ বাহিনী আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা (AQAP)। প্রতিরোধ বাহিনীর প্রচার শাখা আল-মালাহিম মিডিয়া কর্তৃক গত ৯ অক্টোবর “বীর হাম্মাম আল-হাম্মামির অপারেশনের প্রতি সমর্থন ও অভিনন্দন” জানিয়ে একটি বিবৃতি ও একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেেছে।

বিবৃতিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ইসরায়েলি যাত্রীদের নিয়ে উড্ডয়নশীল ফ্লাই দুবাই ফ্লাইটে হামলাচেষ্টার প্রশংসা করা হয়, একই সাথে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে অভিযান পরিচালনাকারী বীর মেজর নিদাল হাসানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ফ্লাই দুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে যাচ্ছিল। ফ্লাইটে প্রায় ১৮০ ইহুদী যাত্রী ছিল। বিমানের কো-পাইলট ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামি ককপিটের ভেতরেই থাকা জরুরি সরঞ্জাম দিয়ে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচারের ওপর হামলা চালান। এতে বিমানটি হঠাৎ করে উচ্চতা হারায় এবং চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পাইলট হাম্মামি স্বীকার করেন যে, ফিলিস্তিনিদের উপর হওয়া গণহত্যার প্রতিশোধ নিতে তিনি একা পরিকল্পনা করে বিমানটি তেল আবিবে বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন।

AQAP তাদের বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার আদলে “সাহসী ও বরকতময় অপারেশন” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং উল্লেখ করেছে – “ফিলিস্তিনে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইহুদিবাদী ও আমেরিকানরা নিরাপদে ঘুমাতে পারবে না।”

বিবৃতিতে দ্বিতীয় যে ঘটনাটি টেনে আনা হয়েছে তা হলো ২০০৯ সালের ফোর্ট হুড অপারেশন।

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নিদাল মালিক হাসান ছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মেজর পদবী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি ৫ নভেম্বর ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনা ঘাঁটিতে আফগানিস্তানে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত সৈন্যদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এতে ১৩ মার্কিন সৈন্য নিহত এবং ৩২ সৈন্য আহত হয়।

তদন্তে বেরিয়ে আসে, এই অভিযানের আগে মেজর নিদাল হাসান ইয়েমেনে অবস্থানরত AQAP নেতা আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ করেছিলেন। এরও আগে আওলাকি যখন ভার্জিনিয়ার দার আল-হিজরা মসজিদের ইমাম ছিলেন, তখন সেখানে হাসানও যাতায়াত করতেন।

২০১৩ সালে সামরিক আদালত তাকে ১৩টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়। দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়া শেষে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালের মার্চে তার আবেদন খারিজ করে দেয়। সর্বশেষ ২ অক্টোবর ২০২৬ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দেয় এবং সেনাবাহিনী ৩ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিন ধার্য করে।

বিবৃতিতে আল-কায়েদা তিনটি পক্ষকে উদ্দেশ্য করে বার্তা প্রেরণ করে:

ক) ইসরায়েলের উদ্দেশে: বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজায় চলমান হত্যাকাণ্ডের বদলা নিতে মুসলমানদের কাছে তাদের অপরাধের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে।

খ) মুসলিম যুবকদের উদ্দেশে: AQAP আহ্বান জানিয়েছে, প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রকে ব্যবহার করে হামলা চালায়, যেমনটি হাম্মামি ককপিটকে ব্যবহার করেছেন। তারা একে “লোন উলফ জিহাদ” বলে উল্লেখ করেছে।

গ) বন্দী প্রসঙ্গে সরাসরি হুমকি: বিবৃতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ হলো মার্কিন প্রশাসনকে দেওয়া হুমকি। মার্কিন কর্মকর্তারা হাম্মামি এবং নিদাল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা বলার পর AQAP আল-কায়েদার প্রয়াত নেতা শহিদ ওসামা বিন লাদেনের (রহিমাহুল্লাহ) একটি পুরোনো হুমকি পুনরায় উল্লেখ করে। সেখানে বলা হয়েছে, “যেদিন আমেরিকা আমাদের বন্দী খালিদ শেখ মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেবে, সেদিন থেকে আমাদের হাতে থাকা তোমাদের বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্তও কার্যকর হবে।” একই হুমকি এবার হাম্মামি ও নিদাল হাসানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে AQAP জানিয়েছে।

AQAP এর আমির সাদ বিন আতেফ আল-আওলাকি হাফিযাহুল্লাহ তাঁর অডিও বার্তায় হাম্মামিকে “১১ সেপ্টেম্বরের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা বীর” বলে আখ্যা দেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, দুনিয়ায় প্রায় দুইশ কোটি মুসলমানের মধ্যে হাজার হাজার হাম্মামি রয়েছেন। তাঁরা প্রতিটি পাথর ও গাছের পেছন থেকে ইহুদি ও আমেরিকানদের খুঁজে বের করবে।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধনির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ না করায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আক্ষেপ, যুবককে থানায় নিল পুলিশ