
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় চুরির সন্দেহে থানায় নেওয়ার পর এক মুসলিম যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবকের নাম বরজাহান শাহ(৩৫)। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে নিহত মুসলিমকে মারধর ও সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। গ্রামবাসীরা পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যশপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, বরজাহান একটি প্রতিবেশী এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে চোর সন্দেহে আটক করে। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, থানায় বরজাহানকে মারধর করা হয়। সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেনি পুলিশ। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বরজাহানের ছেলে ইসমাইল শাহের অভিযোগ, থানার সিসিটিভি ফুটেজে তার বাবার ওপর নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী শেখ জাহাঙ্গীর জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি থানার ভেতরে বরজাহানকে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছিলেন।
বরজাহানের স্ত্রী আজমিরা বিবির অভিযোগ, তাকে স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ তার আধার কার্ড নেওয়ার পর একটি নথিতে সই করতে বলে। তিনি স্বামীর মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখেন। অথচ পুলিশ যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে বিষয়টিকে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দেয়।
থানার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বরজাহানের শ্বশুর মোবারক খান এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। চোর সন্দেহ করে অভিযোগকারীরা বরজাহানকে মারধর করেছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বরজাহানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা থানার সামনে জড়ো হন। হাসপাতাল থেকে মরদেহ ফেরত আনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গ্রামবাসীরা অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ করেন।
তাদের অভিযোগ, চুরির অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে পুলিশ হেফাজত নিয়ে বরজাহানকে হত্যা করেছে।
এদিকে হেফাজতে মারধর ও হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। অভিযোগকারী ব্যক্তিরা আটকের সময় ভুক্তভোগীকে মারধর করেছিল বলে জানায় পুলিশ।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/3ann5zc9


