
ভারতে বিহার রাজ্যের পশ্চিম চম্পারণ জেলায় পুলিশ হেফাজতে দিলশাদ আনসারি (২৫) নামে এক মুসলিম যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের নির্যাতনের দরুন তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। এ ঘটনায় ছয় হিন্দু পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর গভীর রাতে দিলশাদকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় পুলিশ। কয়েক ঘণ্টা পর বেত্তিয়ার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তার মরদেহ দেখতে পায় পরিবার।
দিলশাদ একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী নাজমা খাতুন, তাদের চার মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
দিলশাদের স্ত্রী নাজমা খাতুন জানান, ১২ অক্টোবর রাত ২টার দিকে প্রায় ২০ জন পুলিশ সদস্য দুটি গাড়িতে তাদের বাড়িতে আসে। দিলশাদকে জিজ্ঞাসাবাদ ও সকালের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তারা থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিবারকে ফোন করে হাসপাতালে যেতে বলা হয়। সেখানে পৌঁছে তারা দিলশাদকে মৃত অবস্থায় পান।
নাজমা বলেন, “বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। আমার কোলে চার মাসের মেয়ে। তার বাবাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
বেত্তিয়া পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক পদার্থসংক্রান্ত আইনের (এনডিপিএস) একটি মামলায় দিলশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, থানায় নেওয়ার সময় চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেয় দিলশাদ, এতে গুরুতর আহত হয়ে তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে দিলশাদের বাবা আকবর আনসারি বলেন, “গাড়িতে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য তার সঙ্গে ছিলেন। তাদের ঘেরাওয়ের মধ্যে সে কীভাবে চলন্ত গাড়ি থেকে পালাবে? আর সে লাফ দিতেই বা যাবে কেন?” তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ সদস্যদের আঘাতে তার ছেলের মাথায় গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়।
ঘটনার পর পশ্চিম চম্পারণের পুলিশ সুপার কুমার গৌতম ছয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে। তাদের মধ্যে দুই উপপরিদর্শক রবি শঙ্কর কুমার ও অরুণ কুমার এবং চার কনস্টেবল সৌদাগর কুমার যাদব, রাজ কুমার ঋষি, কুন্দন কুমার ও সুমন কুমার রয়েছেন।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছে দিলশাদের পরিবার। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণসহ পরিবারের একজন সদস্যের জন্য সরকারি চাকরি চেয়েছে তারা।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/2jhnanjc


