কলকাতার রেড রোডকে ঘিরে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের দ্বিচারিতা; এক ঘণ্টার ঈদ জামাতে নিষেধাজ্ঞা, অথচ পূজার সুবিধার্থে বন্ধ চার দিন

0
0

হিন্দুদের দুর্গাপূজার আয়োজনকে ঘিরে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রেড রোড সড়ক টানা চার দিন বন্ধ রেখেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার। এছাড়া আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানেও সাত দিন বন্ধ ছিল গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক।

একই রোডে ঐতিহাসিকভাবে ঈদের নামাজ আদায়েরও নজির রয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতার উত্থানের পর সেখানে ঈদের নামাজের জন্য মাত্র এক ঘন্টার জন্যেও সড়কটি বন্ধ রাখতে রাজি হয়নি মুসলিমবিরোধী সরকার।

বরং নিরাপত্তা ও যানজটের অজুহাত দেখিয়ে তারা সড়কটিতে ঈদের জামাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্য-প্রণোদিত ও দ্বিচারিতামূলক অভিহিত করেছেন সমালোচকেরা।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মহালয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিরকি আয়োজন, সাজসজ্জা, তিন হাজার ঢাকির প্রদর্শনী এবং মঞ্চসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য রেড রোড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

৬ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ১০ অক্টোবর গভীর রাত কিংবা ১১ অক্টোবর ভোর পর্যন্তও সড়কটি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এক ঘণ্টার ঈদের জামাতেও অনুমতি নেই

কলকাতার রেড রোডে ঈদের জামাত দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। ১৯১৯ সাল থেকে সেখানে ঈদের দিন নিয়মিত জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি নিরাপত্তা ও যানজটের কারণ দেখিয়ে সেখানে ঈদের নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি। মুসল্লিদের বিকল্প হিসেবে কলকাতার ময়দানে নামাজ আদায় করতে বলা হয়।

এর আগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে হিন্দুত্ববাদী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার রেড রোড টানা সাত দিন বন্ধ রাখার বন্দোবস্ত করে। ওই সময় দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতে হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং কলকাতায় হাজির হয়েছিল। সে রেড রোডে তৈরি করা সুবিশাল মঞ্চে উপস্থিত থেকে হাজার হাজার মানুষের সামনে যোগব্যায়াম ও আসন প্রদর্শন করেছিল।

হিন্দুত্ববাদী সরকারের এসব সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, মাত্র এক ঘণ্টার জন্য মুসলিমদের ঈদের নামাজ আয়োজনের অনুমতি না দেওয়া হলেও অন্য অনুষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি ও আয়োজনের জন্য কীভাবে টানা কয়েক দিন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ রাখা হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, এটি নিছক সাধারণ যান নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়; বরং সুপরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং রাজ্যজুড়ে হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের পক্ষপাতিত্ব কায়েম করার নগ্ন প্রচেষ্টা।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/5aykrtsd

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধপাকিস্তানে শত্রু সেনাবাহিনীর সাপ্লাই কনভয় ও চৌকিতে আইএমপি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ৪ অভিযান