
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বিশেষ প্রশিক্ষণের আড়ালে কাশ্মীররের বিভক্তিকে আরো পাকাপুক্ত করতে লাদাখে সামরিক শক্তি আরও বাড়াচ্ছে দখলদার ভারত। পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় ভারতের যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার করতে বিশেষ এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৯ অক্টোবর কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাদাখের প্রতিকূল পরিবেশে যান্ত্রিক সামরিক ইউনিটগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কঠোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে দখলদার ভারতীয় সেনাবাহিনী। এতে পার্বত্য অঞ্চলের উচ্চতার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, সেনাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রশিক্ষণে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা ও সরঞ্জাম মোতায়েনের অনুশীলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ট্যাংক ও সামরিক সরঞ্জামের অবস্থান নির্ধারণ, নজরদারি ব্যবস্থা এবং পানি পথে চলাচলের মহড়াও চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার পর থেকে লাদাখে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানসহ যান্ত্রিক সামরিক ইউনিটের উপস্থিতি বাড়িয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
তবে এসব মহড়াকে দখলদার ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসন এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকগণ। তাদের মতে, বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন ও যুদ্ধের মহড়া দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখ অংশে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ‘কঠোর প্রশিক্ষণ, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অভিযান এবং চূড়ান্ত আঘাত’—এই নীতিতে নতুন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। অধিকৃত কাশ্মীরের এর অঞ্চলটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতেই ভারত সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে।
তাদের মতে, মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর ও সীমান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে না গিয়ে ভারত যুদ্ধের প্রস্তুতিকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। সামরিক কর্মকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অপরদিকে লাদাখের স্থানীয় জনগণের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি বারবরই উপেক্ষিত থাকছে।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/4j5hfayt


