তিন বছর ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিপর্যস্ত গাজায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সন্ত্রাসী ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে; বরং বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক মানুষ, বাস্তুচ্যুত পরিবার ও সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ পৃথক দুটি হামলায় ছয় ফিলিস্তিনি শহীদ এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি কার্যালয়ে সন্ত্রাসী ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি শহীদ হন। গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, শহীদ ব্যক্তিরা সরকারি কর্মচারী ছিলেন। হামলায় আরও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওই কার্যালয়ে বাণিজ্যিক পণ্য ও মানবিক সহায়তাবাহী ট্রাকের প্রবেশ সমন্বয়ের কাজ চলছিল।
একই দিন মধ্য গাজার মাজাগি শরণার্থীশিবিরের প্রবেশপথের কাছে একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এতে দুই ফিলিস্তিনি শহীদ হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ছাড়া, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার ও বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। হেবরনে টানা কয়েক দিনের অভিযানে প্রায় পাঁচ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে সালফিতের দেইর বালুত এলাকায় দুটি ফিলিস্তিনি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং পানির সংযোগ লাইন ধ্বংস করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় মোট শহীদের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ।
যুদ্ধবিরতির পরও ধারাবাহিক হামলা, প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনা প্রমাণ করছে, গাজাবাসীর দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি। তিন বছর ধরে চলা এই আগ্রাসনের ক্ষত প্রতিদিন আরও গভীর হচ্ছে।
তথ্যসূত্র :
1. Israel kills 6 Palestinians in Gaza strikes despite ceasefire
– https://tinyurl.com/bdehc6hx


