নথি থাকা সত্ত্বেও বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন

0
2

ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ৪০ বছর বয়সী এক বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করেছে দেশটির হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন।

ভুক্তভোগী সাহিদা ফকির পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগরের স্থানীয় বাসিন্দা। গত ১৮ জুলাই রাতে নাভি (নতুন) মুম্বাইয়ের সানপাড়ায় একটি বাজার থেকে তাকে আটক করেছিল হিন্দুত্ববাদী পুলিশ।

সাহিদার স্বামী জুম্মান ফকির জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে সাহিদার পরিচয়পত্র, জন্মসনদ, স্কুল সার্টিফিকেট, তার পিতা-মাতার জমির দলিলসহ একাধিক ডকুমেন্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৩ দিন পর তাদেরকে জানানো হয় যে, সাহিদাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাহিদার স্বামী ও দুই ছেলে বর্তমানে ভারতেই রয়েছেন।

এর আগে বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (MASUM) নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন কলকাতা হাইকোর্টে অভিযোগ করেছিল যে, সাহিদাকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, সাহিদার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের একাধিক সরকারি নথি রয়েছে। তাসত্ত্বেও তাকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হয়েছে।

জুম্মান ফকির আরও বলেন, “আমাদের বাড়ি স্বরূপনগরে। আমরা ভারতীয় নাগরিক, গত দুই দশক ধরে মুম্বাইয়ে বসবাস করছি। ইতিপূর্বে আমরা কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি।”

পরিবারের দাবি, সাহিদাকে আরও কয়েকজনের সাথে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কথিত পুশব্যাকের পর তিনি বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন। সেখানে পৌঁছাতে তাকে কর্দমাক্ত মাঠ দিয়ে প্রায় ৮ ঘণ্টা হাঁটতে হয়েছে।

সাতক্ষীরা থেকে ফোনে সাহিদা জানান, রাত প্রায় ১টার দিকে সীমান্ত দিয়ে তাকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাগণ তাকে খাবার, পোশাক ও আশ্রয় দিয়েছেন। অসহায় সাহিদা দাবি জানান,“আমি একজন ভারতীয় নাগরিক, আমি শুধু বাড়ি ফিরতে চাই। আমার ছেলে ৭ম শ্রেণিতে পড়ে। এখন তার দেখাশোনা কে করবে?”

সাহিদা আরও জানান, তার তিন ভাই-বোনের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। তবে তার নিজের নাম এবং এক বোনের নাম বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের বিবেচনাধীন রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কোনও বিচার বা আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ ব্যতীত ভুক্তভোগীকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে হিন্দুত্ববাদী পুলিশ ও সিআইডি কর্মকর্তারা। আটকের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার নিয়ম থাকলেও প্রায় ৯০ ঘন্টা পরেও তাকে হাজির না করে পুলিশি হেফাজতেই রাখা হয়। তাকে এমনকি তার পরিবার বা কোন আইনজীবীর সাথে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে, পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নামে বাংলাভাষী মুসলিমদের ওপর চলমান ধরপাকড় ও অতিরিক্ত নজরদারির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/y3by3x4a

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধবেলুচিস্তানে রাত ২টায় এলোপাথাড়ি বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী
পরবর্তী নিবন্ধভিডিও || কাবুলে আফগান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি “আফগান মিল্লি পারখতিয়াই শিরকত”-এর নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে