
উত্তরের যুদ্ধ এবার ছড়িয়ে পড়ছে মালির দক্ষিণেও। গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে মালির জান্তা (FAMa) এবং তাদের মিত্র আফ্রিকান কর্পসকে লক্ষ্য করে সাতটি পৃথক হামলা চালিয়েছেন আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জেএনআইএম প্রতিরোধ যোদ্ধারা। এর মধ্যে অধিকাংশ অভিযানেই দক্ষিণের সিকাসো ও সেগো রাজ্যে চালানো হয়েছে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতির নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও আয-যাল্লাকা মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, জেএনআইএম সংশ্লিষ্ট প্রতিরোধ যোদ্ধারা গত ২৩শে অক্টোবর থেকে ৩০শে অক্টোবর পর্যন্ত মালির টিম্বুকটো, সেগো ও সিকাসো রাজ্যে ৭টি পৃথক অভিযান চালানো হয়েছে। এরমধ্যে ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায়, সিকাসোতে জান্তার টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলার মধ্য দিয়ে অভিযানের ধারাবাহিকতার শুরু হয়। এরপর ২৪ অক্টোবর ডায়াবালিতে, ২৫ অক্টোবর হেরেমাকোনো-সিকাসো সড়কে একটি কনভয়ে আইইডি বিস্ফোরণ, ২৮ অক্টোবর নামপালা সেনা চৌকিতে আইইডি হামলা, ২৯ অক্টোবর মৌরদিয়া-কাওয়ালা সড়কে সেনাবাহিনীর গাড়িতে আইইডি বিস্ফোরণ এবং একই দিনে টিম্বুকটোর লেরে ক্যাম্পে আক্রমণ, এবং সর্বশেষ ৩০ অক্টোবর জাঙ্গোসু-বৌরাসো সড়কে ফের আইইডি বিস্ফোরণ।
এই সাতটি অভিযানের মধ্যে ৪টিই ছিল পুঁতে রাখা বোমা বা আইইডি হামলা, ২টি ছিল অতর্কিত আক্রমণ। অক্টোবর মাসে মালিতে জেএনআইএম যোদ্ধারা সরাসরি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার চেয়ে সেনাদের চলাচলের পথকেই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছেন।
ইতিপূর্বে দেশটিতে যুদ্ধের মূল কেন্দ্র ছিল উত্তর ও মধ্য মালি। কিন্তু বর্তমানে উত্তরের চাইতে জেএনআইএম যোদ্ধারা দক্ষিণের সিকাসো ও সেগোতে বেশি মনোযোগী হচ্ছে, ফলে গত এক সপ্তাহে পরিচালিত ৭টি অভিযানের ৬টিই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো হয়েছে।
জেএনআইএম প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এসকল অভিযানের ফলে জান্তা ও তাদের সহযোগী মিলিশিয়া বাহিনী এবং রাশিয়ার আফ্রিকান কর্পস বাহিনীতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেই সাথে প্রচুর পরিমাণে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
– https://chirpwire.net/thread/1102541
– https://chirpwire.net/thread/1102466
– https://chirpwire.net/thread/1102387
– https://chirpwire.net/thread/1102328


