ভারতে শতাব্দীপ্রাচীন কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির বলে ঘোষণা করল মধ্যপ্রদেশের হিন্দুত্ববাদী আদালত

0
8

১৫ মে ভারতে মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় ভোজশালা কমপ্লেক্সের বিতর্কিত স্থানকে সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে হিন্দুত্ববাদী হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট স্থানটি বহু শতাব্দী ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে।

ঐতিহাসিকভাবে উক্ত স্থানটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ব্যাপারটি স্বীকার করেছে আদালত। তা সত্ত্বেও হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের দাবি, উক্ত স্থানে তারা একটি প্রাচীন সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ও একটি মন্দিরের ইঙ্গিত লাভ করেছে।

অপরদিকে মুসলিম সম্প্রদায়কে একটি মসজিদ নির্মাণের পৃথক জমি বরাদ্দের জন্য রাজ্য সরকারের নিকট আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে হিন্দুত্ববাদী আদালত।

হিন্দু আবেদনকারীদের দাবি, কমপ্লেক্সটি ছিল রাজা ভোজ নির্মিত একটি সরস্বতীর মন্দির। এছাড়া জৈন সম্প্রদায়ের একজন আবেদনকারীও স্থানটিকে মধ্যযুগীয় জৈন মন্দির ও গুরুকুল হিসেবে দাবি করেছে। তবে হিন্দু ও জৈন সম্প্রদায়ের দাবির স্বপক্ষে ঐতিহাসিক কোনও সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০০৩ সালে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সার্ভে (এএসআই) একটি আদেশ জারি করেছিল যে, উক্ত কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার হিন্দুরা উপাসনা করবে, অপরদিকে শুক্রবার মুসলিমরা এতে জুমা’র সালাত আদায় করবে। কিন্তু হিন্দু পক্ষ এই আদেশেও সন্তুষ্ট হয়নি, তারা একচেটিয়াভাবে এটি মন্দির হিসেবে ব্যবহারের জন্য অধিকার দাবি করতে থাকে।

এই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১১ মার্চ এএসআইকে কমপ্লেক্সটির একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। এএসআই সেই বছরের ২২ মার্চ সমীক্ষা শুরু করে এবং ৯৮ দিনব্যাপী একটি বিস্তারিত সমীক্ষার পর আদালতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারের পরমার রাজাদের শাসনামলের একটি বিশাল কাঠামো এই মসজিদেরও আগে নির্মিত হয়েছিল এবং বর্তমান বিতর্কিত কাঠামোটি মন্দিরের পুনর্ব্যবহৃত অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

তবে, মুসলিম পক্ষ আদালতে যুক্তি দিয়েছে যে এএসআই এর জরিপ প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। সুস্পষ্ট কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও হিন্দু আবেদনকারীদের পক্ষ নিয়ে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্টরা।


তথ্যসূত্র:
1.https://tinyurl.com/yftzkyxh

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধTAPI প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ এর পাশাপাশি তরল ও কৃত্রিম গ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে ইমারাতে ইসলামিয়া
পরবর্তী নিবন্ধউত্তরপ্রদেশে আড়াই বছর ধরে চলমান একটি মসজিদের নির্মাণ কাজ আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দিলো হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন