
হবিগঞ্জে সরকারি শিশুপরিবারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলার পর নিখোঁজ রয়েছে এক কিশোর। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ কিশোর উজ্জ্বল মিয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সে সরকারি শিশুপরিবারের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ দিকে বৃহস্পতিবার থেকে ওই কিশোরের খোঁজ না পাওয়ায় সদর মডেল থানায় জিডি করেছে সরকারি শিশুপরিবার কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, উজ্জ্বলকে ২০১৭ সালে প্রায় পাঁচ বছর বয়সে লাখাই উপজেলার একটি সড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে প্রথমে সিলেটের একটি সেফহোমে রাখা হয়। ২০২৪ সালে তাকে হবিগঞ্জ সরকারি শিশুপরিবারে স্থানান্তর করা হয়।
উজ্জ্বলের অভিযোগ ছিল, শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত মাছ ও মাংসের একটি অংশ বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সে জানিয়েছিল, ১০ কেজি মাছ বা মাংস বরাদ্দ এলেও শিশুদের দেওয়া হয় তার অর্ধেক। এছাড়া নিম্নমানের পোশাক বেশি দামে ক্রয় দেখিয়ে হিসাব করা হয় বলেও অভিযোগ করে সে।
উজ্জ্বলের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘বড় ভাই’ পরিচয়ে কর্মরত একজন কর্মচারী তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মানসিক নির্যাতন করত। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে তাকে জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করে সে।
জানা গেছে, ১০০ আসনের এই সরকারি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কাগজে-কলমে ৭১ জন শিশু রয়েছে। তাদের জন্য সরকারিভাবে মাথা পিছু মাসিক প্রায় পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে খাবার, পোশাক, শিক্ষা ও খেলাধুলার উপকরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি শিশুপরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নিপুন রায়ের দাবি, উজ্জ্বলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। সে প্রায়ই কর্মচারী ও অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে অসদাচরণ করত। গত বৃহস্পতিবার এক কর্মচারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনার পর প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে সে আর ফিরে আসেনি। এর আগেও একবার সে প্রতিষ্ঠান থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এবং পরে একটি গাড়ি ওয়াশ সেন্টার থেকে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র:
১। অনিয়মের অভিযোগ তোলার পর শিশুপরিবারের শিশু নিখোঁজ
– https://tinyurl.com/2yh9ry9f


