
সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বাইদোয়া শহরের উপকণ্ঠে হারাকাতুশ শাবাব মুজাহিদিন ও মোগাদিশু বাহিনীর মধ্যে ১৪মে শত্রু একটি ভারী লড়াই সংঘটিত হয়েছে। এতে মোগাদিশু বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার সহ অন্তত ৯ সৈন্য নিহত এবং আরও বহু সংখ্যক সৈন্য আহত হয়েছে।
শাহাদাহ এজেন্সির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম সোমালিয়ার বে রাজ্যের অন্তর্গত বাইদোয়া শহরের উপকণ্ঠে আশ-শাবাব নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় একটি সামরিক আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে পশ্চিমা সমর্থিত মোগাদিশু বাহিনী। ১৪মে বৃহস্পতিবার, মোগাদিশু বাহিনীর এই আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় হারাকাতুশ শাবাব মুজাহিদিনরাও তীব্র পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন, এতে উক্ত এলাকায় উভয় বাহিনীর মাঝে ভারী সংঘর্ষ শুরু হয়।
হারাকাতুশ শাবাব আল-মুজাহিদিনের সামরিক নেতৃত্ব এক বিবৃতি উল্লেখ করেছে যে, শরিয়াহ্ শাসিত এলাকায় বসবাসকারী লোকজন যখন তাদের দৈনন্দিন কৃষি কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন, তখন ধর্মত্যাগী মোগাদিশু বাহিনী ভারী সাঁজোয়া যান নিয়ে এলাকায় তাদের নৃশংস কর্মকাণ্ড চালাতে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। কিন্তু মুজাহিদিনরা অল্প সময়ের মধ্যেই সাঁজোয়া যানে সজ্জিত মোগাদিশু বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র পাল্টা আক্রমণে লিপ্ত হন। মুজাহিদিনরা সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই মোগাদিশু বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করেন, এতে শত্রু বাহিনী লাঞ্ছনাকর পরাজয়ের শিকার হয়।
সংক্ষিপ্ত এই যুদ্ধে মুজাহিদদের হামলায় মোগাদিশু বাহিনীর অন্তত ৯ সেনা সদস্য নিহত হয়েছে এবং অন্য শত্রু সৈন্যরা ঘটনাস্থলে তাদের নিহতদের মৃতদেহ ফেলে পালিয়ে গেছে। নিহতদের মধ্যে মোগাদিশু বাহিনীর দুই ঊর্ধ্বতন কর্নেলও রয়েছে। তারা হলো, নবম ব্রিগেডের কমান্ডার এবং বর্তমানে ৬০তম ডিভিশনের ডেপুটি কমান্ডার কর্নেল ইউনুস ইব্রাহিম এবং ৬০তম ডিভিশনের অষ্টম ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল আলি আদো।
এই যুদ্ধে শত্রু বাহিনীতে হতাহতের ঘটনা ছাড়াও, মুজাহিদিনরা বিমান-বিধ্বংসী অস্ত্রে সজ্জিত ৪টি সাঁজোয়া যানও গনিমত হিসাবে জব্দ করেছেন। আর বেঁচে যাওয়া শত্রু সৈন্যরা জীবন বাঁচাতে বিশৃঙ্খলভাবে বাইদোয়া শহরের দিকে পালিয়ে যায়।
আশ-শাবাবের সামরিক নেতৃত্ব দৃঢ়ভাবে এই ঘোষণা করেন যে, তাদের এই যুদ্ধের লক্ষ্য হচ্ছে,
– মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করা।
– ইসলামী শরিয়াহ্ আইন বাস্তবায়ন করা।
– ক্রুসেডার দখলদার এবং তাদের ধর্মত্যাগী অনুসারীদের থেকে মুসলিম ভূমিকে মুক্ত করা।
তাই আন্তর্জাতিক ক্রুসেডার জোট এবং তাদের ধর্মত্যাগী অনুসারীদের বিরুদ্ধে মুজাহিদিনরা ততক্ষণ পর্যন্ত এই যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন, যতক্ষণ না সমস্ত ইসলামী ভূমি থেকে শত্রুকে বিতাড়িত করা হয় এবং আল্লাহর শরিয়া সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়।
এই লক্ষ্যে হারাকাতুশ শাবাব মুজাহিদিনরা সোমালিয়ার মুসলমানদেরকে শত্রুর ঘাঁটিগুলো থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানায়। সেই সাথে শত্রু বাহিনী কর্তৃক বলপূর্বক দখলকৃত এলাকাগুলোতে তাদের নিয়ন্ত্রিত সদর দপ্তর ও কার্যালয়গুলো থেকেও মুসলমানদেরকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। কেননা এসকল স্থান সর্বদা মুজাহিদদের হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
তথ্যসূত্র:
– https://shahadaagencynews.com/?p=36454


