
ভারতে মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলার একটি গণপিটুনি মামলায় অভিযুক্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোরক্ষক কর্মীদের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ায় চরম বিদ্বেষমূলক অপবাদ ও প্রাণনাশের হুমকিতে পড়েছে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক তাবাসসুম খান। উক্ত ঘটনার জেরে গোটা ভারতজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালের ২ আগস্ট রাতে গবাদি পশু বহনকারী একটি ট্রাক নিয়ে মধ্যপ্রদেশের অমরাবতী ছেড়ে যায় ৩ মুসলিম। যাত্রাপথে বারাখাদ গ্রামের নিকটে তাদের পথ আটকায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী কথিত গোরক্ষক কর্মীরা। গরু পরিবহনের অভিযোগে ভুক্তভোগী ৩ মুসলিমকে লাঠি দ্বারা নির্মমভাবে মারধর করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতা। নৃশংস এ ঘটনায় নাজির আহমদ (৫০) নামে এক মুসলিম নিহত হন। অপর ২ ভুক্তভোগী কোনভাবে জীবন রক্ষা পায়।
৪ বছর পর গত ১২ জুন এই ঘটনার রায় ঘোষণা করেছে বিচারক তাবাসসুম খান। আদালত এই হত্যাকাণ্ডকে “চরম বর্বর ও নৃশংস” বলে আখ্যা দিয়ে ১৪ জন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
আদালতের এই রায় ঘোষণার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাজাপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেছে। তবে পরিস্থিতি সবচেয়ে নোংরা রূপ নেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিচারক তাবাসসুম খানের মুসলিম পরিচয় টেনে এনে বিচার প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ করছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সমর্থকরা।
বিচারক তাবাসসুম খানকে “হিন্দু-বিরোধী” আখ্যা দিয়ে তার পুত্তলিকা দাহ করা হয়। ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে এক উগ্রপন্থী ব্যক্তিকে বিচারকের মুসলিম পরিচয়কে উদ্দেশ্যে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, ১০ দিনের মধ্যে সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তি না দিলে দেশজুড়ে “রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার” হুমকিও দেয় সে।
উগ্র হিন্দুত্ববাদী টেলিভিশন চ্যানেল ‘সুদর্শন নিউজ’-এর সম্পাদক সুরেশ চহ্বানকে এই রায়কে “জুডিশিয়াল লিঞ্চিং” বা আইনি হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছে। তারা প্রকাশ্যেই অপরাধীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
এই বিক্ষোভে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে সর্বাগ্রে আছে গো রক্ষা পরিষদ। কেবল মধ্যপ্রদেশেই নয়, পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন স্থানেও বিক্ষোভ করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
সমালোচকদের দাবি, অভিযুক্তদের ধর্মের ভিত্তিতে সাজা দেওয়া হয়নি, বরং দাঙ্গা, হত্যা এবং হত্যার চেষ্টার অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছে।
পক্ষান্তরে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ক্ষোভ কেবল এই একটি জায়গায় যে, রায়দানকারী বিচারক একজন মুসলিম নারী। আর মুসলিম হওয়ার কারণে সে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করেছে। অর্থাৎ বিচারকের মুসলিম পরিচয়ের ইস্যু ধরে রায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে হিন্দুত্ববাদীরা, এভাবে পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে মোড় দিতে তারা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চেষ্টা করছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/y55uetdm
2. https://tinyurl.com/bde693k3


