কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ৬ দিনে ৯৫টি ভূমিধসের ঘটনা, নিহত ১৫, গৃহহীন ৪ হাজারের অধিক

0
6

ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে লাখো রোহিঙ্গা ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছেন। গত ৪ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ৯৫টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ রোহিঙ্গা। ভূমিধসে ৪ হাজার ৩০৭ রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়েছেন। নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৬ হাজার ১১৯ জন। এসংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে উখিয়ার ৫ নম্বর ক্যাম্পের এ-১১ ব্লকে ভূমিসহ দেয়াল ধসে একটি মাদরাসার পাঁচ ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাদ্রাসাটির আরও আট শিক্ষার্থী। দুই দিন আগে উখিয়ার জামতলী, কুতুপালং ও বালুখালী আশ্রয়শিবিরে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ অন্তত আট রোহিঙ্গা মুসলিমদের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিধসে হতাহতের ঘটনা বাড়তে থাকায় আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হতাহত ব্যক্তিদের ঘরে ঘরে হাহাকার চলছে।

বুধবার মাদরাসার দেয়ালধসের ঘটনায় মাটিচাপা পড়ে নিহতদের একজন আশ্রয়শিবিরটির বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩)। ওই দিনই রাশিদার লাশ আশ্রয়শিবিরের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর পর থেকে তার মা-বাবার কান্না থামছে না। হাসিম উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ওই দিন ভোর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তিনি ঘরে অবস্থান করছিলেন। সকালে তিনি প্রতিদিনের মতো মেয়েকে মাদরাসায় দিয়ে আসেন। বিকেলে খবর আসে, দেয়াল ধসে তাঁর মেয়ে মারা গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাসিম উল্লাহ বলেন, পবিত্র কোরআন হিফজ (মুখস্থ) করার জন্য এক বছর আগে মেয়েকে মাদরাসাটিতে ভর্তি করান। আর তিন মাস পর হিফজ শেষ হতো মেয়ের। এর আগেই মেয়েটির মৃত্যু হলো।

ভূমিসহ দেয়ালধসের একই ঘটনায় নিহত অপর চারজনের মধ্যে দুজন আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩) ও উম্মে সালমা (১২)। তাদের হিফজও দুই মাস পর শেষ হওয়ার কথা। আবদুস শুকুর বলেন, দুই মেয়ের মৃত্যুতে তাঁর ঘরে এখন হাহাকার চলছে। দুই মাস পর দুই মেয়ের হিফজ শেষ হওয়ার কথা। মেয়েদের কোরআন পাঠে সকালে তাঁর ঘুম ভাঙত। এখন নির্ঘুম রাত কাটছে।

ভূমিধসের ঘটনায় মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় আশ্রয়শিবিরের আরেক বাসিন্দা মো. ইলিয়াছ। তিনি বলেন, মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন তাঁরা। এখানেও বর্ষায় পাহাড়ধস, শীতকালে অগ্নিকাণ্ড আর অন্য সময়ে সন্ত্রাসীদের গুলির আতঙ্কে থাকতে হয়।

এদিকে, টেকনাফের উপজেলায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির রয়েছে সাতটি। ভারী বৃষ্টিতে এসব আশ্রয়শিবিরের ৩০টির বেশি স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে টেকনাফে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। উপজেলার আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার বসবাস।

টেকনাফের ২৫ ও ২৭ নম্বর আশ্রয়শিবিরের ইনচার্জ খানজাদা শাহরিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ইতিমধ্যে পাহাড়ে ঝুঁকিতে থাকা ১০০টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মসজিদ, স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বজনদের বাসায় অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

জাদিমোরা আশ্রয়শিবিরের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বদরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের ঘটনা বাড়তে থাকায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।


তথ্যসূত্র:
১। কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে ৬ দিনে ৯৫টি ভূমিধসের ঘটনা, গৃহহীন ৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা: ইউএনএইচসিআর
– https://tinyurl.com/57dn7esh

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাজশাহীর চারঘাটে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করল প্রতিবেশি দেব চন্দ্র দাস নামের এক হিন্দু যুবক
পরবর্তী নিবন্ধদেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা, ভূমিধ্বস ও নদীভাঙন, ত্রাণের জন্য হাহাকার