
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে আসন্ন ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৪৫৬টি মাদ্রাসার সরকারি অনুদান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। সম্প্রতি রাজ্যে মাদ্রাসা বোর্ডের বিলুপ্তির সূত্র ধরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হিন্দুত্ববাদী সরকারের দাবি, মাদ্রাসা বোর্ডের বিলুপ্তির কারণে পূর্বের অনুদান ব্যবস্থা আর কার্যকর নেই। তাই এর সাথে সম্পৃক্ত বাজেট বরাদ্দ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।
এছাড়া রাজ্যে পুনর্গঠিত শিক্ষা আইনে প্রথাগত মাদ্রাসার মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। ফলস্বরূপ সরকারি চাকরির আবেদনে মৌলভী, আলিম ও মুন্সির মতো শংসাপত্র এখন আর স্বীকৃত নয়।
গত ১ জুলাই হতে উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা বোর্ডের পরিবর্তে পুনর্গঠিত শিক্ষা আইনের আওতায় সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ও স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোই কেবল সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বেশ কয়েকটি মুসলিম সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা। তাদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তে মুসলিমদের শিক্ষাগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, এতে ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংসের জন্য টার্গেট বানানো হয়েছে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামায়াতের সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রাজভী অভিযোগ করেছেন, মুসলিম তরুণ প্রজন্ম ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করুক বা জীবনে উন্নতি করুক এটি সরকার চায় না। ইতিপূর্বে অনুমোদনবিহীন দাবি করে প্রায় ১৫০টি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আর এখন মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করে সরকারি সহায়তা তুলে নেওয়া হচ্ছে।
পদক্ষেপটি মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা প্রকাশের একটি ধরন হিসেবে বর্ণনা করেছেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সেলিম।
তিনি বলেন, সংবিধান সকল ধর্মের অনুসারীদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার অধিকার দেয়। এছাড়া স্বীকৃত মাদ্রাসাগুলোতে ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি হিন্দি, ইংরেজি এবং অন্যান্য মূলধারার বিষয়াবলী পাঠদান করা হয়, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অবদান রেখে যাচ্ছে।
অপরদিকে বেশ কিছু মাদ্রাসা রয়েছে যারা সরকারি অনুদানের উপর নির্ভর করে না। মুসলমানদের অনুদান দ্বারাই এগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ অনুমোদনবিহীন দাবি করে সেগুলোও পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা সাজিদ রশিদি।
তথ্যসূত্র:
1. https://tinyurl.com/45uut6wj


