
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কাবিটা, কাবিখা ও টিআর প্রকল্পে অস্বাভাবিক বরাদ্দ, কাজ না করে বিল উত্তোলন এবং একই প্রকল্পে একাধিকবার বরাদ্দ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব প্রকল্প নিয়ে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
দৈনিক আমার দেশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আউশকান্দি গ্রামের উলুকান্দি সড়কের সাবেক মেম্বার বরকত উল্লাহর বাড়ির পাশে খালের পানি চলাচলের জন্য একটি ছোট কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। কালভার্টটির প্রস্থ ৩ ফুট ও দৈর্ঘ্য ১৫ ফুট। এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ টাকা।
আউশকান্দি ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিহাব আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ‘যে কাজ হয়েছে, সেখানে মনে হচ্ছে ২০-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমরা এই কাজের বিষয়ে কিছুই জানি না। শুনেছি, এমপি সাহেবের চাচা নাকি কাজ করছেন।’
এদিকে, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের মসিবপুরে ফজলু মিয়ার বাড়ি থেকে নুরগাঁওয়ে জামাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কার প্রকল্প দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিকরা ওই স্থানে গিয়ে দেখতে পান, ওই স্থানে বাস্তবে কোনো সড়ক নেই। শেরখাই নদীর একটি বাঁধকে সড়ক দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়াও সেখানে সড়ক পাকাকরণের কোনো চিহ্নও দেখা যায়নি। তবে এ প্রকল্প সম্পর্কে সভাপতি এমদাদুল হক সাংবাদিকদের বলেন যে, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছালিক মিয়া জানান, আমার ইউনিয়নে যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়নি। সম্পূর্ণ ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এখানে বাস্তবে কোনো সড়ক নেই।
অন্যদিকে, আউশকান্দি ইউনিয়নের আমুকোনা জামে মসজিদের সড়ক দেখিয়ে একই প্রকল্পে ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার চাচা শাহ আজাদ আলী সুমনের বাড়ির সামনে ওই সড়কের জন্য ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে এলাকায় নানান প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ তিনটি প্রকল্পের পাশাপাশি সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার গ্রামের বাড়ি দেবপাড়া ইউনিয়নের জালালসাপ গ্রামের সড়কের একটি কাজে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই কাজে সড়কের পুরোনো ইট ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ৩০০ ফুট কাজ করার কথা থাকলেও সরেজমিনে সর্বোচ্চ ২০০ ফুট কাজ হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
১। নবীগঞ্জে কাবিটা-টিআর প্রকল্পে অস্বাভাবিক বরাদ্দের অভিযোগ
– https://tinyurl.com/b2rjdvzz


