
সম্প্রতি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদকের বড় একটি চালান উদ্ধার করে। তবে উদ্ধার হওয়ার পর মাদকের চালানটি ১০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে সমঝোতা করে প্রাইভেটকারসহ মাদক কারবারিদের হাতে ছেড়ে দেয় পুলিশের অফিসাররা।
অভিযুক্ত চার পুলিশ কর্মকর্তা হল- হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক তুহিন, উপ-পরিদর্শক রিমন মিয়া এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক আব্দুল হাকিম ও লুৎফর রহমান।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা উপজেলার বোর্ডের হাট বাজারের পূর্ব পাশে এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালায় ওই চার পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযানে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়।
তবে জব্দকৃত মাদক থানায় না নিয়ে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে যায় তারা। সেখানে মাদক কারবারিদের সাথে ১০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে আটককৃত প্রাইভেটকার ও মাদকের চালানটি ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানায়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে এএসআই আব্দুল হাকিম এক ইউপি কর্মচারীর মোবাইল ফোন থেকে সিসিটিভি মনিটরিং অ্যাপ ও ফুটেজ মুছে দেয়। এর পরদিন ভবানীপুর গ্রামে অন্য একটি অভিযানে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পুলিশ সদস্যরা ফিরে আসতে বাধ্য হয়। এরপরই বিষয়টি পুরো এলাকায় জানাজানি হয় এবং তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার সাংবাদিকদের জানায়, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় চার পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
১। মাদক উদ্ধারে গিয়ে ঘুষ গ্রহণ, ৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার
– https://tinyurl.com/mr3dm6a6


