আলেমদের ব্যাখ্যাকে “চরমপন্থী ইসলাম” আখ্যায়িত করে যুদ্ধের ঘোষণা ইব্রাহিম ট্রাওরের

0
13

বুরকিনা ফাসোর সামরিক (জান্তা) নেতা ইব্রাহিম ট্রাওরে দেশটির আলেমদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে (তার ভাষায়) “চরমপন্থী ইসলামের” বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর ঘোষণার দিয়েছে। সে বলেছে, “এটাই যদি তোমাদের ইসলাম হয়, আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। চরমপন্থীদের অবশ্যই বদলাতে হবে। যদি তারা না বদলায়, তাহলে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।” বিবৃতিতে ট্রাওরে জান্তা সরকারের গৃহীত “ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন”-এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, এর লক্ষ্য হলো বুরকিনা ফাসোর ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে শক্তিশালী করা।

দেশটির এই সামরিক নেতা বলেছে যে, যেসব ইমাম তাদের ধর্মোপদেশের মাধ্যমে “চরমপন্থী ধারণা” ছড়ানোর চেষ্টা করবে, তাদেরকে বরখাস্ত করা হবে। তবে রাষ্ট্র সেইসব ধর্মীয় পণ্ডিতদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে, যারা “ইসলামের শান্তিপূর্ণ ব্যাখ্যার” পক্ষে কথা বলবেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির জান্তা সরকারের সাথে দেশের শীর্ষস্থানীয় সুন্নি আলেম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উত্তেজনা বৃদ্ধির পর ট্রাওরের এই মন্তব্য এসেছে।

গত মে মাসের শেষে প্রভাবশালী স্থানীয় সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দো খুতবায় সরকারের “ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন” সহ ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। এই খুতবার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে জান্তা বাহিনী।

এসময় ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দোর মুক্তির দাবিতে রাজধানী ওয়াগাদুগুর বৃহত্তম মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করেন সাধারণ মুসলিমরা। এই বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে “জনশৃঙ্খলা” বিঘ্নিত হওয়ার অজুহাত তুলে রাজধানীর বৃহত্তম মসজিদটি বন্ধ করে দেয় ইব্রাহিম ট্রাওরের সরকার। এসময় বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ১০০ জন মুসলিমকে বন্দী করে সামরিক কারাগারে পাঠায় সামরিক জান্তা। একইভাবে চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইমাম মাহমুদ বারোকেও গ্রেপ্তার করে জান্তা বাহিনী।

এরপর সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে সম্মানিত আলেমদের এই সমালোচনা ও জনসাধারণের বিক্ষোভকে ‘উগ্রবাদী’ কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দেয়। আর দ্বীনের সঠিক ব্যাখ্যাকে সে “চরমপন্থী ইসলাম” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে এবং এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ্য যে, গত ২০ জুন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন সংসদ কর্তৃক পাস হয় ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন’। এই আইনের মাধ্যমে মসজিদে জায়গা সংকুলান না হলে সাময়িকভাবে রাস্তায় জুমার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা, খুতবায় শুধু “শান্তির ইসলাম” প্রচারে চাপ, দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর নজরদারি, ধর্মীয় সংগঠনগুলোর অর্থ ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু নিয়ম জারি করা হয়েছে। এর বিপরীত কিছু করলে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

জান্তা সরকার বলছে, এই আইনটির লক্ষ্য “দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।”

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন

পূর্ববর্তী নিবন্ধনারায়ণগঞ্জে পুলিশের পোশাক পরে আড়াই লাখ টাকা ছিনতাই, বাধা দেওয়ায় তরুণকে ছুরিকাঘাত
পরবর্তী নিবন্ধপাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সরবরাহ লাইন ও পদাতিক দলের উপর আইএমপি মুজাহিদদের সফল হামলা