
পাকিস্তানের বান্নু জেলায় সম্প্রতি নিরাপত্তার অযুহাতে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছে দেশটির সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী। এসময় সেনা সদস্যরা অনেক নিরপরাধ বন্দী ও এলাকাবাসীকে শহীদ করছে। সেই সাথে সেনা সদস্যরা মানুষের ঘরে ঢুকে তল্লাশির নামে মূল্যবান সম্পদ চুরি করছে।
আঞ্চলিক গণমাধ্যম সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বান্নুতে গত ১০ দিন ধরে অভিযানের নামে দেশটির সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী নিপীড়নের এক নতুন অধ্যায় খুলেছে। নিপীড়িত মানুষের বাড়িতে ঢুকে তাদের সম্পত্তি ধ্বংস করা হচ্ছে। অনেক নিপীড়িত ও নিরপরাধ বন্দীকে জেল থেকে বের করে এনে সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে শহীদ করা হয়েছে। নিরপরাধ ও ধার্মিক মুসলিমদের বাড়িগুলোতে অভিযান চালিয়ে তাদের ঘর থেকে সোনা ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর অভিযোগ করা হচ্ছে যে, তারা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সহায়তাকারী ছিল।
আর নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর যেনো জনগণের কাছে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য জেলাটির সব ধরনের যোগাযোগ সংকেত জ্যাম করে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সাথে চলমান সংঘর্ষে দেশটির সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর অবস্থা এমন যে, তারা মাত্র ২০ জন মুজাহিদের মোকাবেলা করতে হাজার হাজার সেনা সদস্যের একটি বাহিনী নিয়ে আসে। কিন্তু তারপরেও ব্যর্থ হয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের নিহত সদস্য ও ধ্বংসপ্রাপ্ত যানবাহন ফেলে রেখেই পালিয়ে যায়।
এই ধারাবাহিকতায় বান্নুতে চলমান অভিযান চলাকালে, প্রতিরোধ যোদ্ধারা জেলাটির তালগি এলাকায় সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি যৌথ গাড়িবহরে অতর্কিত আক্রমণ চালান। মুজাহিদদের অতর্কিত এই আক্রমণের ফলে সন্ত্রাসী সেনা ও পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক হতাহত ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়াও জেলার মেরিয়ান ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতেও প্রতিরোধ যোদ্ধা, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে তিন দিন ধরে রক্তক্ষয়ী লড়াই চলছে। ফলশ্রুতিতে বহু সংখ্যক সন্ত্রাসী সেনা ও পুলিশ সদস্য হতাহতের শিকার হয়েছে।
এই যুদ্ধকালে আইএমপি সংশ্লিষ্ট প্রতিরোধ যোদ্ধারা মাইন দিয়ে সেনাবাহিনীর দুটি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছেন। ফলশ্রুতিতে সামরিক যান দুটি সম্পূর্ণরূপে আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং সেগুলোতে থাকা সন্ত্রাসী সেনা সদস্যরা নিহত হয়।
এদিকে, জেলাটির তালগি ও হানিকালি এলাকায় গত ১০ দিনের লড়াইয়ে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে অন্তত ৩০ সন্ত্রাসী সেনা ও পুলিশ সদস্য হাতাহত হয়েছে। জেলার অন্যান্য এলাকাগুলোতেও আরও কয়েকগুণ বেশি সন্ত্রাসী সেনা ও পুলিশ সদস্য হাতাহত শিকার হয়েছে এবং ব্যাপক বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে। সামরিক বাহিনী কর্তৃক জেলার যোগাযোগ সংকেত জ্যাম করে দেওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র:
– https://tinyurl.com/3ptw98ef

