‘কম্বল মুজাহিদ’ তত্ত্বঃ আপনি প্রস্তুত তো?

1
704

অনলাইনে তাওহীদ ও জিহাদের দাওয়াহ প্রদানকারী অনেকেই ‘কম্বল মুজাহিদ’ শব্দটির সাথে পরিচিত। বিরোধীরা তাদেরকে ‘কম্বল মুজাহিদ’ বলে আখ্যা দেন। এইভাবে ‘কম্বল মুজাহিদ’ আখ্যা দেওয়া নিঃসন্দেহে অনুচিত, আর যারা এমন বলেন তারা গ্লোবাল জিহাদের নেতৃবৃন্দের অবস্থান জানেন না। ময়দানের উমারাহগণ বলেছেন, অনলাইনে দাওয়াহ দেওয়া এবং মিডিয়াতে জিহাদের বার্তা প্রচার করা, বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে জিহাদের ৫০% বা তারও বেশি!

অবশ্য, যারা কেবল অনলাইনে জিহাদের ব্যাপারে লাইক-কমেন্ট করে নিজস্ব আড্ডা বানিয়ে অপরের সমালোচনা ও গিবত করে সময় কাটান, যারা গঠনমূলক কোনো কাজ করেন না কিন্তু জিহাদের বুঝ পেয়েছেন বলে মনে করেন, নিজেকে ‘জিহাদী’ মনে করে আত্মতৃপ্তিতে ভুগেন অথচ বাস্তবতায় আপনার ‘ঝুলি শূন্য’, যারা নির্দিষ্ট কিছু স্ট্যাটাস পড়াকে ইলম অর্জনের জন্য যথেষ্ট মনে করেন, উমারা ও উলামাগণের কোনো কিতাব ও বার্তা যারা পড়ে দেখেন না, কাফেলাবদ্ধ না হতে পারার কষ্টে কিংবা হিজরতের আকাঙ্ক্ষায় যাদের একটি রাতও নির্ঘুম কাটেনি, যারা নিজ ঈমান-আমলের ব্যাপারে উদাসীন, নিজেদের সময়ের ব্যাপারে উদাসীন, যারা ফরজে আইন বোঝার পরও বিনা প্রচেষ্টায় ফরজ ত্যাগ করে ‘ফিসক’ এ লিপ্ত আছেন, যারা উলামায়ে কেরামের বক্তব্য পিছনে ছুড়ে ফেলে নিজেরা উগ্রের মত তাকফির করাকে গ্লোবাল জিহাদের মানহাজ মনে করেন, যদি ‘কম্বল মুজাহিদ’ দ্বারা এমন ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য হয় তবে তাদের নিয়ে আমার কিছু কথা আছে।

তবে আমি এটাও বলি, ‘কম্বল মুজাহিদ’ কথাটি কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ ‘মুজাহিদ’ কথাটি এভাবে তাচ্ছ্যিল্যের সাথে ব্যবহার করা বৈধ মনে হয় না।
যাইহোক, যারা ‘কম্বল মুজাহিদ’ বিশেষণে আখ্যায়িত হয়েছেন, তাদের উচিত এটা নিয়ে একটু চিন্তা করা। আসলেই কি তারা যা বলে আমি তা? যদি না হই, তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ। যারা আমাকে ‘কম্বল মুজাহিদ’ বলছে, তাদের দিকে ফিরে তাকানোরও আপাতত প্রয়োজন নেই, কোন প্রয়োজন নেই তাদের কথার জবাব দেওয়ার। প্রয়োজন নেই তাদেরকে মৌখিকভাবে প্রমাণ করার যে, আপনি একজন ‘সত্যিকারের মুজাহিদ’। বরং, আপনি তা কাজের মাধ্যমে করে দেখাবেন ইনশাআল্লাহ। যেমনটা বলে গেছেন আমিরুল মু’মিনিন মোল্লা মুহাম্মদ উমর মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ, যেমনটা প্রমাণ করে গেছেন কমান্ডার জাকির মূসা রহিমাহুল্লাহ। আপনি কি জানেন, জাকির মূসা রহিমাহুল্লাহকে বিরোধীরা ‘ভারতের চর’ আখ্যা দিয়েছিল!? তিনি কিন্তু বিরোধীদের প্রতিউত্তর দিয়েছিলেন, তবে মৌখিক নয় বরং তাঁর রক্ত দিয়ে! হ্যাঁ, তিনি প্রমাণ করে গেলেন যে, তিনি ছিলেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহব্বতকারী একজন ‘সত্যিকার মুজাহিদ’, তিনি ইসলামের শত্রু মুশরিক হিন্দুদের চরম দুশমন ছিলেন। তিনি যে মুমিনদের প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন, তাঁর রক্তমাখা দেহ, তাঁর শাহাদাত, তাঁর জানাযার সালাত কিন্তু এটি প্রমাণ করেছিল! আপনাকেও তাঁদের মত হতে হবে ভাই। আপনাকেও একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে, নিজের অন্তরকে একটু শান্ত করতে হবে। কীভাবে শান্ত করবেন? আপনার রবের সাথে কথা বলে। আপনার রবের সাথে আপনার দুঃখ-কষ্টটা একটু শেয়ার করুন না ভাই! তিনি তো আপনার কষ্ট বুঝেন। তিনি তো বুঝেন যে, আপনার স্বজাতি আপনার প্রতি অপবাদ আরোপ করছে, আপনাকে না জেনে আপনার প্রতি মিথ্যাচার করছে! আল্লাহর কাছে আপনি সর্বোচ্চ সান্ত্বনা পাবেন ভাই, ইনশাআল্লাহ। একটু কেঁদে বলুন রবের কাছে, ‘ইয়া রাব্বি! আপনি আমাকে প্রশান্ত হৃদয় দান করুন।’ আল্লাহ আপনাকে ফিরিয়ে দিবেন না ভাই, দেখবেন তিনি আপনার অন্তরে প্রশান্তি ঢেলে দিয়েছেন!

এখন কথা হলো, যদি আপনি প্রকৃতপক্ষেই (বিরোধীদের ভাষায়) একজন ‘কম্বল মুজাহিদ’ হন, তাহলে কী করবেন? এটা কিন্তু ভয়াবহ বিষয় ভাই। এমন পরিস্থিতিতে তো আপনার নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার কথা, লজ্জিত হওয়ার কথা! একটু মোহাসাবা করুন ভাই। নিজেকে একটু যাচাই করে দেখুন, বিরোধীদের এই প্রশ্নটা আপনিই আপনাকে করুন না ভাই! দেখুন না অন্তর কী বলে! অন্তর কি বলছে না যে, আপনি আসলে জিহাদের কোন প্রকার প্রস্তুতিই নেননি! অন্তর কি এরূপ বলছে না যে, আপনি যে কথাগুলো বলেন তা কেবলই পরিচিত হওয়ার জন্য! আরে আপনি তো কেবল এই জন্যই জিহাদের কথা বলেন যে, এই কাজে আপনি মজা পান! সারাদিন লেপটপের সামনে বসে ফেসবুকে আড্ডা দিতে আপনার ভালো লাগে! এখানে অন্য কোন কাজ করার চাপ নেই! তাই নয় কি? আপনি নিজের দিকে তাকান তো ভাই। আল্লাহর সাথে আসলে আপনি কতটুকু আন্তরিক? আপনি কি আল্লাহর হকসমূহের ব্যাপারে সচেতন? ফরজগুলো কি আপনি যথাযথ আদায় করছেন? আসলেই আপনি কী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন ভাই? নিয়মিত ব্যায়াম করছেন কি? সামর্থ্যানুযায়ী কোন অস্ত্র প্রস্তুত রেখেছেন?! সামর্থ্য না থাকলে সামর্থ্য অর্জনের জন্য বাস্তবিকভাবে আপনি কী প্রচেষ্টা করেছেন? দুশমনদের গতিবিধি কি নজরে রেখেছেন? পরিজন-প্রতিবেশীদের মধ্যে দাওয়াত পৌঁছিয়েছেন? দুশমনদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার জন্য এলাকায় কোন উদ্যোগ নিয়েছেন? হিজরতের জন্য প্রস্তুত আছেন তো?

আপনি যদি এগুলো নাই করে থাকেন, তাহলে কী করেছেন? একটু বলুন তো ভাই! আপনার কথার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আসলে কী? আপনি যদি (বিরোধীদের ভাষায়) ‘কম্বল মুজাহিদ’ নাই হন, তাহলে এগুলো করছেন না কেন ভাই? আল্লাহ তো বলেছেন, ‘যদি তারা বের হবার সংকল্প নিত, তবে অবশ্যই কিছু সরঞ্জাম প্রস্তুত করতো।’ [ সুরা তাওবা ৯:৪৬ ]

আর আপনি বলছেন- আমরা মুসলিম, আমাদের অস্ত্র লাগবে না! মিয়া ভাই! কী দরকার নিজেকে ধোঁকা দেওয়ার? আপনি তো অস্ত্র লাগবে না এই কারণে বলছেন যে, অস্ত্র কিনলে আপনার টাকা খরচ হবে! কী? মিথ্যা বললাম? আচ্ছা, মিথ্যা হলেই ভালো। কেননা, আমি চাই আপনি প্রস্তুত হোন, অস্ত্র প্রস্তুত করুন। নতুবা ভয় হয়; না জানি আল্লাহর বলা সূরা তাওবার এই আয়াতের লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান, আল্লাহ বলেন- ‘কিন্তু তাদের উত্থান আল্লাহর পছন্দ নয়, তাই তাদের নিবৃত রাখলেন এবং আদেশ হল বসা লোকদের সাথে তোমরা বসে থাক।’ [ সুরা তাওবা ৯:৪৬ ]

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে আপনার নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, সিদ্দিক, শুহাদাদের অন্তর্ভু্ক্ত করুন, আমাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিন, আমলগুলোকে কবুল করে নিন, সর্বপ্রকারের ফেতনা থেকে হেফাজতে রাখুন, আমীন ইয়া রাব্বি।


লেখক: খালিদ মুন্তাসির, সম্পাদক, আল-ফিরদাউস নিউজ।

Facebook Comments

১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন