ঘরে-বাইরে সর্বত্রই দুর্ভোগে রাজধানীবাসী

0
143

রাজধানী ঢাকাবাসীকে বর্ষাকালে ভুগতে হয় জলাবদ্ধতায় আর শুষ্ক মৌসুমে পোহাতে হয় ধুলার দুর্ভোগ। কোনো মৌসুমেই নগরবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে রাস্তাঘাটে চলাচল করতে পারে না। শুধু তাই নয়, কাজ শেষে ঘরে ফিরেও শান্তি নেই। বাসায় ফেরার পর শুরু হয় মশার জ্বালা। মশার ভোঁভোঁ শব্দ এবং কামড়ে বিরক্ত ও অতিষ্ঠ রাজধানীর নগরবাসী। অর্থাৎ ঘরে-বাইরে সবখানেই যেন জ্বালা, কোনো স্থানেই স্বস্তিতে নেই রাজধানীবাসী। রাজধানীর ঢাকা শহর দিন দিন দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হচ্ছে। ঢাকা শহর এখন অনেকটাই ধুলায় ঢাকা। এই ধুলার কারণেই নগরবাসীকে দিন-রাত নাকাল হতে হচ্ছে নানাভাবে। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়ছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে ধুলার পরিমাণ। তাছাড়া রাজধানীতে বর্তমানে এডিস মশা তেমন একটা না থাকলেও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে কিউলেক্স মশা। রাত-দিন এসব মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজধানীবাসী।

কিউলেক্স মশা ঠেকাতে ঢাকা-উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) বেশকিছু পদক্ষেপ নিলেও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) চলছে ধীরগতিতে। এনায়েত হোসেন খাঁন। রাজধানীর মিরপুর কালশী এলাকার বাসিন্দা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কী আর বলব! রাজধানীতে ঘরে-বাইরে সবখানেই জ্বালা। সকালে অফিস যাওয়ার জন্য যখন বের হই, তখন পুরো রাস্তায় ধুলা এমনভাবে ওড়ে, দেখে মনে হয় কুয়াশায় ছেয়ে আছে। এখন রাজধানীতে মেট্রোরেলের কাজ চলছে। বাইরে থেকে ফেরার পর পরনের জামা-কাপড়ের ওপর ধুলার আস্তরণ জমে থাকে। আবার দিনের বেলায় ধুলাবালি মিশ্রিত অবস্থায় বাসায় ফেরার পরও শান্তি নেই। তখন শুরু হয় মশার উৎপাত।

ডেঙ্গুর প্রকোপ চলাকালীন প্রতিদিন খুবই আতঙ্কে দিন কেটেছে খিলক্ষেতের সাইফুল ইসলামের। এখন শুরু হয়েছে শীতকালীন মশার জ্বালা। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে এত মশার উপদ্রব বাড়ে যে, ঘরের ভেতরেও মশা জেঁকে ধরে। মশার কয়েল, অ্যারোসল কিছু দিয়েই মশাকে প্রতিরোধ করা যায় না। আর ডেঙ্গুর সময় দুই সিটি কর্পোরেশন মশা মারতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বর্তমানে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কিছু কর্মসূচি চোখে পড়লেও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। ফলে বাইরে ধুলা আর বাসায় মশার জ্বালায় আমরা অতিষ্ঠ!’

নগরবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে মশক নিধন কর্মীদের তেমনভাবে আর মাঠে দেখা যাচ্ছে না। কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি দেখতে পাচ্ছে না নগরবাসী। সংস্থাটি ঘোষণা দিয়েছিল ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে বছরজুড়ে কাজ করবে তারা। কিন্তু দু-তিন মাসের ব্যবধানে তাদের কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

সূত্রঃ মানবকন্ঠ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন