কুমিল্লা মহাসড়ক যেন এক আবর্জনার ভাগাড়!

0
137

কুমিল্লা মহাসড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকায় উৎকট পঁচা দুর্গন্ধে যেন দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম ঘটে। সড়কের পাশ দিয়ে হেটে চলা শিক্ষার্থী ও পথচারীরা চলাফেরা করতে হয় নাকে মুখে কাপড় বেঁধে। উৎকট গন্ধে যাত্রীরা বাধ্য হয় অনেক সময় বমি করতে।

নিমসার, চান্দিনা বাস স্টেশন, দেবিদ্বার, নাজিরা বাজার, পদুয়ার বাজার, চৌদ্দগ্রাম সহ কুমিল্লার বিভিন্ন অংশের মহাসড়ক যেন খোলা আবর্জনার ভাগার। মরা পুশুপাখি হাসপাতালের বর্জ্য, কারখানা, হাট বাজার, পৌরসভা ও আবাসিক এলাকার সকল ময়লা গাড়ি দিয়ে এনে স্তুপ করে ফেলা হচ্ছে মহাসড়ক ও ফুটপাতের উপরেই। স্থানীয় সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর শোধনাগার না থাকায় রুগীদের ব্যবহৃত বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে মহাসড়কে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পরেছে আশেপাশের পরিবেশ। ছড়াচ্ছে রোগ জীবাণু সহ বাড়ছে ডেঙ্গু মশার বিস্তার। কেবল পরিবেশ দূষণই হয় মাহাসড়কের পাশে জনবহুল খোলা যায়গায় এমন কি স্থানীয় কৃষকদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও জোর করে ফসলি জমির ওপরে ফেলা হচ্ছে এসব বর্জ্য। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কৃষকরা। তাছাড়া এসব ময়লার স্তুপ পরিস্কারের নামে অনেক সময় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয় লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের সরকারি গাছ।

রাতের আধারে এসব গাছ কৌশলে কেটে নিয়ে বিক্রি করেছে একটি চক্র।প্রায় সহস্রাধীক মূল্যবান গাছ অনুমতি ছাড়াই কেটে নেয়া হয়েছে। রাতের আধাঁরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব গাছ প্রথমে উপড়ে ফেলে দিয়ে পরে তা টুকরো করে কেটে নেয়। মহাসড়কের পাশে ও ফুটপাতে এসব দুষিত বর্জ্য ও আবর্জনা থেকে রোগ বালাই তো ছড়াচ্ছেই সেই সাথে আশেপাশের পরিবেশের ওপর এর বিরুপ প্রভাবও পরছে। উন্মুক্ত স্থানে ফেলে দেয়া বিষাক্ত ঔষধ ও বিষ জাতীয় দ্রব্য খাওয়ার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী জীবজন্তু ও পাখি মারা যাচ্ছে।

এবিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহ বলেন, বিষয়টি নিয়ে এর আগে বহুবার বিভিন্ন পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে, মৌখিক ভাবেও বহুবার তাদের বলা হয়েছে। কিন্ত তারা কেউ বিষয়টি কর্ণপাত করেন নি। যার ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার মূল্যবান গাছ নষ্ট হচ্ছে। শুধু গাছই নয় সড়কের সৌন্দর্য ও পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

সূত্রঃ ভোরের কাগজ

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য করুন!
দয়া করে এখানে আপনার নাম লিখুন